৩ দিন ধ‌রে হাসপাতালের বারান্দায় অজ্ঞাত ব্যক্তি, চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু

অসুস্থ অবস্থায় তিন দিনেরও বেশি সময় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকলেও চিকিৎসা না পেয়ে অজ্ঞাত এক ভবঘুরে ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে তিনি মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি অসুস্থ ওই ভবঘুরেকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যান। সেদিন থেকে তিনি কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রোগীদের বসার স্থানে পড়ে ছিলেন। অভিভাবক না থাকার ‘অজুহাতে’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা‌কে চিকিৎসা দেয়নি বলে অভি‌যোগ উঠেছে।

তবে কর্তৃপক্ষ অভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে‌ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না। তিনি চত্বরে ঘোরা‌ঘুরি করছিলেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিতে আসা চাঁদ মিয়া, শাহাবুদ্দিন ও সৈয়দ আলীসহ কয়েকজন বলেন, ‘অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি ৩/৪ দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিলেন। আমরাই তাকে কলা, রুটি ও পানি খেতে দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। সোমবার দুপুরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।’

তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘৩/৪ দিন আগে আমার এলাকা উমানন্দ কাজলডাঙ্গা স্কুলের বারান্দায় ওই ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিলেন। জানতে পেরে কয়েকজন লোকের মাধ্যমে তা‌কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। আজ (সোমবার) দুপুরে জান‌তে পারি, চিকিৎসা ছাড়াই তার মৃত্যু হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে যাওয়ার পরও চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা অমানবিক।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাঘু‌রি করতেন। আজ সকালেও তা‌কে চলাফেরা কর‌তে দেখা গেছে। তা‌কে কেউ হাসপাতালে ভর্তিও করেনি। সে কারণে তার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

ভর্তি রোগী না হওয়ায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির বিষ‌য়ে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়কে জানানো হয়নি বলেও জানান আরএমও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেশকাতুল আবেদ বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে যারা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল, এখানে ওনার জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সে কারণে তাকে কুড়িগ্রাম বা রংপুর হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন। কিন্তু তারা সে কথা না শুনে সটকে পড়েন।’ তবে চিকিৎসাহীন অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে কোনও সদুত্তর দেননি এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

উলিপুর থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার দুপুরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তার স্বজন‌দের খোঁজ পাওয়া না গেলে আঞ্জুমানে ম‌ফিদুল‌ ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত কর‌তে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রংপুর সিআইডির ক্রাইম সিন টিম রওনা হ‌য়ে‌ছে বলে জানা গেছে।