আমরা টিকে থাকবো কিনা, এই আন্দোলনে সেটাই নির্ধারিত হবে: মির্জা ফখরুল

দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে তামাশা বানিয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকার এমনটি মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তারা এমন একটা দল, যারা নিজেকে ছাড়া আর কাউকে চেনে না। অন্যদের সহ্য করতে না পেরে ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করেছিল। আজকে নতুন কায়দায় বাকশাল কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু নির্বাচন করতে চায় বাকশালি কায়দায়।’

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। এবার আমরা পরিবর্তন চাই। দেশের মাটির জন্য, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের এই আন্দোলন। আজকের লড়াই-সংগ্রাম আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। জাতি হিসেবে আমরা টিকে থাকবো কিনা, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেটাই নির্ধারিত হবে।’

বুধবার (১৯ জুলাই) বিকাল ৫টায় রংপুর বিভাগীয় পদযাত্রা শুরুর আগে দিনাজপুর শহরের ইনস্টিটিউট মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। পদযাত্রায় অংশ নেন রংপুর বিভাগের আট জেলার নেতাকর্মীরা। 

আওয়ামী লীগ গোটা জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সন্ত্রাস-আগুন আর হামলার রাজনীতি করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে সংসদে নিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে আগের রাতে ভোট করেছে। সর্বশেষ ঢাকা-১৭ আসনে ভোট পড়েছে মাত্র কয়েক শতাংশ। বর্তমান সরকার ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে আজ কাউকে সহ্য করতে পারে না। এমনকি হিরো আলমকেও সহ্য করতে পারে না। যার জন্য তার ওপর হামলা করেছে। হিরো আলমের ওপর হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ এখন লজ্জার পাত্রে পরিণত হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপরে বাঁশেরহাট এলাকায় হামলা করা হয়েছে। অন্ধকারে অতর্কিত হামলা করে কাপুরুষেরা। যাদের সাহসের অভাব, যারা জনগণের সামনে দাঁড়াতে ‍ভয় পায়, তারাই পেছন থেকে ঢিল মেরে অতর্কিত হামলা চালায়। তাতেও সমাবেশকে ঠেকাতে পারেনি, পারবে না। সব বাধা উপেক্ষা করে মানুষ পদযাত্রায় অংশ নিয়েছে। কারণ, এই আন্দোলন শুধু কৃষক দল, তাঁতী দল, যুবদলের জন্য নয়; বরং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের, তাদের মুক্তির ও বেঁচে থাকার আন্দোলন, ভোট দেওয়ার আন্দোলন।’

আগে দেওয়া ১০ দফা এখন এক দফায় নিয়ে এসেছি, এই এক দফা হলো—শেখ হাসিনার পদত্যাগ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটা পরিবর্তন চাই। সেই পরিবর্তনের জন্য আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়েছে। ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো আবারও নির্বাচন করতে চায় সরকার, তা হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেজন্যই সাধারণ মানুষকে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে বিএনপি।’

আমাদের ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে এই সরকার অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আর এই অবস্থায় থাকতে চাই না। দেশকে রক্ষার জন্য, মাটিকে রক্ষার জন্য এবং আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়াকে রক্ষার জন্য গর্জে উঠতে হবে।’

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পদযাত্রা শুরু হয়। শহরের লিলির মোড় থেকে মুন্সিপাড়া, মডার্ন মোড়, গণেশতলা হয়ে আবারও ইনস্টিটিউট মাঠে গিয়ে শেষ হয় পদযাত্রা।