বুধবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর মাহাফুজার রহমান লিখিত একটি আবেদনপত্রসহ তার শিক্ষা জীবনের অর্জিত সব সনদপত্র জমা দেন। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকার সনদগুলো গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের রতিপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. সৈয়দ আলীর ছেলে মাহাফুজার রহমান। জন্ম থেকেই তার ডান হাত সম্পূর্ণভাবে অবস। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও স্কুল জীবন থেকেই লেখাপড়ায় মেধাবী ছিলেন মাহাফুজার। উত্তারাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুর কারমাইকেল বিশ্বদ্যিালয় কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে সম্মান ও পরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৩ সালে সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিবন্ধী কোটায় নিয়োগ পরীক্ষা দেন। তার রোল নম্বর ছিল ১৩২০। লিখিত পরীক্ষায় জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণদের মধ্যে একমাত্র প্রতিবন্ধী হিসেবে মাহাফুজার রহমানের নামও ছিল। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন।
এ ব্যাপারে মাহফুজার সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবন্ধী কোটা পূরণ সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেই আইন মানা হয়নি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদপত্র সরকারের কাছে জমা দিয়েছি।’
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাহাফুজার রহমান নামে এক ব্যক্তি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর জন্য আমার কাছে জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান আসার পর এসব সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হবে।’
/এসএম/