শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
সদর থানা পুলিশ, ইউএনওর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সাতদরগা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ফোনালাপের মাধ্যমে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার রানা হামিদ (১৬) ও নিরবসহ (২০) তিস্তা সড়ক সেতুর টোল প্লাজার দিকে সাক্ষাতে মিলিত হয়। সেখানেই ওইছাত্রী তার প্রেমিকসহ খোস-গল্প ও হাঁটাহাঁটি করছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা ইউনিয়নের কাচারীপাড়ার আফছার আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (২৩) তাদের পথ রোধ করে।
পরে একই ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিনারুলের সহযোগী নজীর হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন (৩০), ওমর আলীর ছেলে আলম মিয়া (২৪),মোজাম্মেল হকের ছেলে আশরাফুল আলম (২৪), আছর আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৪), হানিফ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (২২) ওই স্কুলছাত্রীকে গালাগাল করে তার প্রেমিকসহ অপর যুবককে মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা দুই যুবককে তাড়িয়ে দেয়। বাসে উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে স্কুলছাত্রীকে মিনারুল তার মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে সহযোগী রাশেদুল ইসলামের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ের দিকে পাঠায়। মিনারুলসহ তার সহযোগীরা বাঁশঝাড়ের দিকে দ্রুত চলে যায়। এ সময় সেখানে আসে একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আনারুল ইসলাম (৩০)। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই স্কুলছাত্রী চিৎকার করতে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২/৩শ’ গজ দূরে হাইওয়ে পুলিশের টহলদল চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে কৌশলে ওই সাত যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘তিস্তা সড়ক সেতুর টোল প্লাজার পাশে পুলিশের হাইওয়ে টহলের সময় এক মেয়ের চিৎকার শুনে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে মেয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাত যুবককে আটক করে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত করা হয়।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে ভিকটিম ও সাত যুবকের প্রত্যেকের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।এর মধ্যে ছয় যুবক নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
/এমএইচ/এমপি/এমএসএম/