পুলিশ ব্যস্ত আলাপে, থানায় আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তথ্য পেলেন না সাংবাদিক

রংপুর নগরীতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরীহ কয়েকজনকে গ্রেফতারের খবর জানতে গিয়ে থানায় পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন একুশে টিভি, বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি লিয়াকত আলী বাদল। আধাঘণ্টারও বেশি সময় থানায় দাঁড়িয়ে থেকে কোনও তথ্য না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে আসতে হয়েছে। অথচ ওসির কক্ষে তিন কর্মকর্তাকে দরজা বন্ধ করে আলাপচারিতা করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, বুধবার (২৫ অক্টোবর) গভীর রাতে পুলিশ রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের মহানগর নেতাকর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসে।

কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এ তথ্য জানার জন্য বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে থানার ওসি মাহফুজার রহমানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি মিটিংয়ে আছেন। দুপুর ১২টার পর ফোন করতে বলেন। পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ফোন করা হলে তিনি এখনও মিটিং শেষ হয়নি জানিয়ে ওসি তদন্তসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন।

অবশেষে গ্রেফতার অভিযানের ১২ ঘণ্টা পরেও প্রকৃত গ্রেফতারের সংখ্যা এবং নাম জানার জন্য এ প্রতিনিধি ক্যামেরাম্যান আলী হায়দার রনিসহ বেলা সোয়া ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসি তদন্ত শাহ আলমসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। এ সময় সেন্ট্রির দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য জানান, সবাই ওসির কক্ষে আছেন।

এরপর ওসির কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে সেখানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার রায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফ হোসেনসহ আরও কর্মকর্তাকে দেখা যায়। অনুমতি নিয়ে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে নিষেধ করা হয়। এ সময় উৎপল কুমারকে মোবাইলে কথা বলতে আর দুই জনকে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে কথা না বলায় আবারও ওসির কক্ষের বাইরে থানার প্রবেশপথে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আইডি কার্ড দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে ওসির কক্ষে পাঠানো হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। ফলে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে আসতে বাধ্য হন লিয়াকত আলী বাদল ও আলী হায়দার রনি।

পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘কাজটি ঠিক হয়নি’। পরে এক প্রশ্নে তিনি জানান, আট জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন বিএনপির। বাকিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এদিকে থানার ভেতরে বেশ কয়েকজন অভিভাবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের স্বজনদের অন্যায়ভাবে ধরে এনেছে। তারা কোনও দল করে না।

এদিকে বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, বুধবার রাতে পুলিশ মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সবুজ, ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক সাব্বির হায়দার আশিক, ওই ওয়ার্ডের যুবদল নেতা শুভ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জলকে গ্রেফতার করেছে। আরও কয়েকজনকে আটক করা হলেও তাদের নাম জানা যায়নি।