দিনাজপুরে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে, বইছে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ। যদিও বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালেই উঠেছে সূর্য, প্রখরতাও ছিল বেশ। ফলে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সব বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা।

দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমলেও সকালেই উঠেছে সূর্য। ফলে কিছুটা স্বস্তি এসেছে জনজীবনে। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় প্রভাব নেই বললেই চলে। তবে ভোরে ঘন কুয়াশা ছিল। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই কুয়াশার প্রভাব কেটে গেছে।

উত্তরের এই জেলায় অবস্থানগত কারণে একটু শীত বেশিই প্রভাব বিস্তার করে এবং দীর্ঘস্থায়ীও হয়। একটি মৌসুমে বেশ কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করে। এই মৌসুমে এ নিয়ে তিনটি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়লো এই জেলা। আগামী সপ্তাহে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শীত মূলত এই এলাকার মানুষের জন্য কষ্টের একটি মৌসুম। কারণ এই মৌসুমে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের আয় রোজগারে ভাটা পড়ে, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। কৃষি অঞ্চলের এলাকাটিতে বর্তমানে আলু ও টমেটোর ফসল রয়েছে মাঠে। আর এই কুয়াশার কারণে এই দুটি ফসল ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়েছে। ফসল রক্ষার্থে কৃষকরা বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 
তাছাড়া আর কয়েকদিন পরই শুরু হবে বোরো চারা রোপণের কার্যক্রম। কিন্তু বীজতলায় চারার অঙ্কুরোদগম হচ্ছে কম। কৃষকরা বলছেন, এর মূল কারণই হলো শীত।

শেখপুরা এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, বোরো বীজতলার চারা কম, আবার যেসব চারা রয়েছে সেগুলোও বাড়ছে না, লালচে হয়ে যাচ্ছে। শীত কমলে এই চারা বাড়বে। 

রাজারামপুর এলাকার নাজমুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমাদের যে আলু ক্ষেত রয়েছে সেগুলোর পাতা পচে কিংবা মরে যাওয়ার মতো হয়ে গেছে। ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে এটি প্রতি বছরই হয়। এ জন্য বালাইনাশক স্প্রে করছি, কিন্তু তেমন কাজ হচ্ছে না। 

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জানান, মূলত ঘন কুয়াশার প্রভাব না থাকা এবং হিমেল বাতাস না থাকার কারণে মানুষের মধ্যে একটু স্বস্তি এসেছে। এই তাপমাত্রা আরও কয়েকদিন বিরাজ করতে পারে। 

এদিকে সকালে তাপমাত্রা কমায় জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সকালেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ক্লাস হবে না। যেসব শিক্ষার্থী সকালে বিদ্যালয়ে এসেছিল তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিদ্যালয়েই থাকবে। রবিবার যদি তাপমাত্রা কম থাকে তাহলেও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।