গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতার মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোচাশহর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান মণ্ডলসহ ১১৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩ জুন) বিকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (চৌকি আদালত) ১১৯ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে বিচারক মো. নাজমুল হাসান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সোমবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. মিজানুর রহমান জানান, আদালতে হাজতি একজন ও ১১৮ জন সশরীরে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অথচ ভোটের দিন বেলা ১১টায় ঘটনার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকলেও কোন আলামতও জব্দ করা হয়নি। কিন্তু এসব বিষয় আমলে না নিয়ে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত।
মামলার বরাত দিয়ে এই আইনজীবী জানান, সহিংসতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২০৩/২৩ নং মামলাটি ২৫ মে রুজু করা হয়। মামলায় ঘটনার সময় ১১টা এবং তারিখ উল্লেখ আছে ২১ মে। অর্থাৎ ভোটের দিন ১১টায় মামলা, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে বাদী উল্লেখ করেন। অথচ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ভোটের দিন মোটরসাইকেল প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছিলেন ১৫ জন আর একজন মাদ্রাসার সুপার মোজাহারুল ইসলাম ছিলেন একটি কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে।
আদালতে শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী ভবেশ চন্দ্র বলেন, একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আদালত ১১৯ জনের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নির্বাচনে জয় পরাজয়ের জেরেই বাদী শহিদুল ইসলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি করেন। আসামিদের জামিনে জজ আদালতে আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে গত ২১ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাড়া কচুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৫ মে রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা একটি মামলা করেন। ২০৩/২৩ নং মামলায় ১৩৩ জন নামীয় আসামি হলেও একই আসামির নাম দুইবার হওয়ায় ১৩১ জন মূল ও অজ্ঞাত ১০০/২০০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে একজন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে পাঠানো উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ খানুন, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা কৃষকলীগের দফতর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন লেলিন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য জলিল, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদুল ইসলাম, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকন আকন্দ।
এ ছাড়া মামলার এজাহারনামীয় ২০ থেকে ২৫ জন মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী-সমর্থক হলেও বাকিরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
বাদীর অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধানের (মোটরসাইকেল) কর্মী-সমর্থক সংঘবদ্ধ হয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশে মারধর, অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার দুই কোটি ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করেন।