নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মিয়া কলেজ অধ্যক্ষকে পিস্তল দেখানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষকে পিস্তল দেখানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা ঠিক না। এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় না।’
সোমবার (৮ জুলাই) বিকালে রংপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানি না এবং দেখিনি। তবে যতটুকু শুনেছি, রংপুর নগরীর সমাজ কল্যাণ বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে পিস্তল দেখানো হয়েছে। পিস্তলটি আসল না নকল সেটা জানি না। এটা কি থ্রেট করার উদ্দেশে করা হয়েছে কিনা জানি না। তবে যে দেশে একজন নির্বাচিত এমপিকে তার সঙ্গীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে শরীরে মাংস কিমা করে ফেলে সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমগুলোর বিশাল ভূমিকা নেওয়ার কোনও মানে হয় না। এটাকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। আমি নিজেও এটাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না।’
এদিকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান রংপুরে এলেও তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মিয়াকে সার্কিট হাউজে দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে রংপুর মহানগর জাপার সভাপতি রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরকেও দলের চেয়ারম্যানকে সেখানে দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা বলেছেন, ‘গুলি করার হুমকি দানকারী আলাউদ্দিন মিয়াকে সার্কিট হাউজে আসতে দলের পক্ষ থেকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে- বিতর্ক এড়ানোর জন্য।’
জানা গেছে, গত ২৪ জুন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতি না করলে পিস্তল বের করে রংপুর নগরীর সমাজ কল্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মফিজার রহমান মিজুকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও জি এম কাদেরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলাউদ্দিন মিয়া। ২ জুলাই রাতে পিস্তলটি পুলিশ উদ্ধার করলেও তাকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি।
তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) আবু মারুফ হোসেন বলেন, এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ২ জুন জাপা নেতা আলাউদ্দিন মিয়ার নগরীর বাবু খা মহল্লার বাসা থেকে পিস্তলটি আটক করে থানায় আনা হয়েছে। পিস্তলটি ভালো অবস্থায় আছে। এটির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে রংপুরের সিনিয়র আইনজীবী রইছ উদ্দিন বাদশা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিসি ফুটেজও দেখেছি। এটা পরিষ্কার বৈধ পিস্তল হলেও একজন কলেজের অধ্যক্ষকে পিস্তল বের করে হুমকি দেওয়া আইনি অপরাধ। তার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ মামলা না করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অস্ত্র আইন ও দণ্ডবিধি আইনের ৩০৭ ধারায় মামলা করতে হবে। দেশে আইনের শাসন অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে অবশ্যই করা উচিত।
এদিকে পুরো ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে। তারাও ঘটনাটি পুরোপুরি সত্য বলে মনে করেন।