‘আমাদের দোষ দিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে পারবেন না আ.লীগ নেতারা’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার সময়ে রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিটি মেয়র ও জাতীয় পার্টির মহানগরের সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। রবিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘১৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার দুষ্কৃতকারী লোহার রড, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। কিন্তু তাদের হামলার মুখে দাঁড়াতে না পেরে নিরাপত্তাকর্মীরা সরে গেলে কার্যালয়ের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। যা ক্ষতির পরিমাণ তিন কোটি ২০ লাখ টাকার মতো।’

গত বৃহস্পতিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সেখানে সহিংসতারোধে সিটি মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি নাসিমা জামান ববিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা সহিংসতার জন্য সিটি মেয়রকে পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘এখন ডিজিটাল যুগ। কিছুই লুকানোর সুযোগ নেই। যারা এসব অভিযোগ করছেন, তারা কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবেন? আমাদের ওপর দোষ দিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে পারবেন না আওয়ামী লীগ নেতারা।’

মেয়র আরও বলেন, ‘হামলার সময়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে লাগানো ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৩০ কিলোমিটার এলাকার ফাইবার অপটিক ক্যাবল, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত কয়েকটি এলইডি মনিটর, মূল ফটকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুড়ে গ্লাস, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে এসব সহিংসতায় কোনও শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। সন্ত্রাসীরা এসব কাজ করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর ও যুব সংহতির সভাপতি ইউসুফ হোসেনকে গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘জাতীয় পার্টি জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি করে না, এসবে বিশ্বাসও করে না। এরপরও যদি দলের কেউ জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে; সেটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে গ্রেফতার করলে আমার কিছুই বলার নেই। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’