কোটা আন্দোলনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার পর রংপুরের বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী নগর ছেড়ে জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম মিজু ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফরিদ জোহাসহ ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
তারা রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানা, পুলিশের বিভিন্ন কার্যালয় , সরকারি অফিসে হামলা আগুন লুটপাটের মামলার এজাহারনামীয় আসামি। এদিকে সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রংপুর মহানগরীতে নাশকতার ঘটনায় ২২টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় নাম উল্লেখিত আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ইফতেখায়ের আলম জানান, জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, সন্ত্রাসীদের কাউকেই ছাড়া হবে না। তারা পর পর দুই দিন রংপুরের পুলিশ লাইন্স, পুলিশের সুপারের বাস ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জেলা মহানগর পুলিশ যৌথভাবে তাদের প্রতিহত করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা রংপুর নগরীতে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। এ বিষয়ে আমরা তাদের গডফাদার, অর্থের জোগানদাতাসহ হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেককেই আমরা চিহ্নিত করে ফেলেছি। তবে এতটুকু নিশ্চিত করতে পারি, নিরপরাধ কোনও ব্যক্তি অযথা হয়রানির শিকার হবেন না। মূল সন্ত্রাসীদেরকেও বিচারের মুখোমুখি করে ছাড়বো।
এদিকে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি রেজওয়ানুর রহমান রোমান, পশুরাম থানা জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনসহ বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রয়েছেন। এ নিয়ে মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮৬ জনকে।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) আবু মারুফ হোসেন জানান, নগরীতে নাশকতার ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ২২ মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, অপরাধীদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আমাদের অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাক না কেন তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
অপরদিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ডিবি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, নিরীহ কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য গ্রেফতার করার পর সিসিটিভি, ভিডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিরীক্ষার পর তার পরই তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়।
এদিকে নাশকতা সৃষ্টি করার ঘটনার পর কারফিউ জারি করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রংপুর নগরী স্বাভাবিকে ফিরছে। আন্তঃজেলা বাসসহ সকল যানবাহন চলাচল করছে।