‘যারাই সহিংসতায় জড়িত ছিল সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকা বাদে বিভাগের আট জেলায় ২৪টি মামলায় মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ৪৪২ জন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত ও ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তবে নগরী বাদে রংপুর জেলার কোথাও কোনও সহিংসতা ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ তৎপর থাকায় কোনও ঘটনা ঘটাতে পারেনি দুষ্কৃতিকারীরা। ফলে রংপুর জেলায় কোনও মামলা হয়নি। তবে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপনে থাকা নাশকতা মামলার ৬৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে গাইবান্ধায় ৪ মামলায় ১১৪, লালমনিরহাটে ২ মামলায় ২৭, নীলফামারীতে ৪ মামলায় ৬৫, দিনাজপুরে ৭ মামলায় ৭৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ মামলায় ৫৪, পঞ্চগড়ে ৩ মামলায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় কোনও মামলা হয়নি। তবে কুড়িগ্রামে ৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন।’

ডিআইজি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি সরকার মেনে নিয়েছিল। তারপরও কেন এই সহিংসতা- এর পেছনে কারও ইন্ধন রয়েছে।’

সহিংসতায় বিএনপি-জামায়াতের দিকে অভিযোগে তির- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কে কোন দল করে সেটা আমরা বিবেচনায় নেই না। অপরাধীকে অপরাধীর দৃষ্টিতে দেখি। যারাই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সবাইকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া ভিডিও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। নিরীহ কাউকেই হয়রানি করা হচ্ছে না। এই বিষয়ে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা ও থানায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ ছাড়াও বিজিবি, পুলিশ এপিবিএনসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয় করে কাজ করছে।’