হত্যা মামলার আসামিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশে দিলো জনতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি আমিনুল ইসলাম কবিরাজকে (৪০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। রবিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ ময়দানের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

গ্রেফতার আমিনুল কবিরাজ সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের কোম্পানি মোড় এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী রাহুল ইসলাম হত্যার মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, মাদক বাণিজ্য, জোর করে ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, আমিনুল ইসলাম কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে চালাতেন বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম। কেউ মুখ খুললে দিতেন মামলা, করতেন মারধর। আবার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, যাদেরকে দিয়ে মাদক ব্যবসা, জোর করে ভূমি দখল, মারধরসহ নানান কার্যক্রম করতেন। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিল এলাকার লোকজন। কিছু দিন আগেও তার অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

এই ঘটনার পর আবারও এলাকাবাসীর নামে মামলা দেন আমিনুল। পরে আমিনুল কবিরাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কবিরাজের লেবাসে মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনৈতিক ব্যবসাও চালাতেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয়দের নামে বেশ কয়েকটি মামলা করেন। 
শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামি হলেও প্রকাশ্যেই চলাফেরা করতেন। 
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। তার অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। এ সময় পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে স্থানীয়রা আমিনুল কবিরাজকে শহরের বড়মাঠ এলাকায় ধরেন। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিন্নাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয়রা আমিনুল কবিরাজের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তাকে ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এর মধ্যেই স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান।