দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সঙ্গে হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৩ শতাংশ এবং গতিবেগ ঘণ্টায় ১ থেকে ২ কিলোমিটার। দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁর বদলগাছিতে। সেখানে তাপমাত্রা ১২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে, গতকাল এবং তার আগের দিন জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস আর ৩ ডিসেম্বর এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসেবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ জেলার তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও সকালে উঠেছে সূর্য কিন্তু প্রখরতা একেবারেই কম। দুপুরেও মানুষজনকে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ায় সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা ঠিকভাবে কাজে যেতে পারছেন না কিংবা কাজে গেলেও ঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না, ফলে তাদের আয় উপার্জনে ভাটা পড়েছে।
সকালে কথা হয় দিনাজপুরের রাজবাটি এলাকার লতিফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি পেশায় একজন অটোচালক। তিনি জানান, এই শীতের মধ্যে অটো চালাতে খুব কষ্ট। সারা দিন যখন গরম থাকে তখন যাত্রী পাওয়া যায় আর চালানো যায়। কিন্তু সন্ধ্যার পর কিংবা খুব সকালে যাত্রীও তেমন পাওয়া যায় না, আর শীতের কারণে অটো ঠিকভাবে চালানো যায় না। ফলে আয় উপার্জন কমে গেছে।
কালিতলা এলাকার ষাটোর্ধ্ব দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই শীতের সময়টাতে খুব কষ্ট হয়। ঠিকভাবে কাজ করা যায় না। আবার কাজ না করলে সংসার চালানোটাও দায়। তাই দু-দিন কাজ করি আর একদিন রেস্ট নিই।’
দিনাজপুর সদর উপজেলার বলতৈর এলাকার কৃষক সেলিম রেজা বলেন, ‘এই সময়টা আলুর বীজ বপনের মৌসুম। কিন্তু এভাবে ঘন কুয়াশা হলে বীজ থেকে ঠিকভাবে চারা গজাবে না আবার চারা গজালেও সেগুলোতে রোগবালাই দেখা দেবে। সেটা নিয়েই একটু চিন্তায় আছি।’
সদর উপজেলার দক্ষিণনগর এলাকার কৃষক সরকার জানান, শুধু আলু নয়, এই সময়টা বোরো তলা তৈরির সময়। এভাবে কুয়াশা আর ঠান্ডা হলে ধানের বীজ থেকেও চারা গজাতে সমস্যা হয়। আবার টমেটোসহ বিভিন্ন ফসলেও সমস্যা দেখা দেয়।