জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা গ্রেফতার

লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর শ্যামল ও তার সহযোগী কামরুলকে ঢাকা থেকে আটক করেছে ডিবি পুলিশের একটি দল। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি সাদ আহমেদের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ ২ ও ধানমন্ডি থানাধীন সোবাহানবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আবু বকর সিদ্দিক শ্যামল ও তার অন্যতম সহযোগী কামরুল বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে তোলাসহ দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে সংযুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জননিরাপত্তাসহ জনশৃঙ্খলার ক্ষতিকর কাজ এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণার সৃষ্টি করেন। এমনকি জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিপ্রায়ে ধ্বংসাত্মক কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কর্মী বাহিনীকে সংগঠিত করছেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল (৪২) হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গুড্ডিমারি এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে হাতিবান্ধা থানা ও আরএমপি কোতোয়ালি থানার একাধিক মামলা রয়েছে।

তার সহযোগী কামরুল হাসান (৩২) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জয়বাংলা ব্রিগেডের সক্রিয় সদস্য বলে জানানো হয়। কামরুল লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সরদার পাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।

পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী সরকারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে তোলাসহ দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তাদের নামে হাতীবান্ধা ও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই দুই জনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আদালতে তোলা হয়নি বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।