যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক বাতিল হওয়া কুড়িগ্রাম-৩ আসন (উলিপুর) থেকে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম (সালেহী)-এর মনোনয়নপত্র আপিলে বৈধতা পেয়েছে। ফলে তিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাহবুবুল আলম সালেহী।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আপিলে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেয়েছি। নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা সার্বক্ষণিক আমার জন্য দোয়া করেছেন। সমৃদ্ধ ও উন্নত উলিপুর গড়তে আমরা কাজ করে যাবো।’
এর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রমাণপত্র সংযুক্ত না থাকার অভিযোগে গত ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন। পরে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই দিন বিকালে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
পরে সাবেক এই শিবির নেতা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কয়েক দফা শুনানি ও প্রতীক্ষার পর রবিবার নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে জামায়াত প্রার্থী সালেহী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অবৈধ ঘোষণা করেন। আপিলে সালেহীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এই আসনে এখন ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে রইলেন।
নির্বাচনি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী তাসভীর উল ইসলামের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী সালেহীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩২ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০২ জন।