এদিকে, দুজন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষী সুলতান মাহমুদ বাসে পেট্রোলবোমা মারার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
সাক্ষী সুলতান মাহমুদ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসামিরা তাকে আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছেন। তারপরেও তিনি আদালতে এসেছেন। তিনি বিচারকের কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন। এ পর্যায়ে বিচারক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার নিরাপত্তা দেবে বলে আশ্বস্ত করলে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন।
অপর সাক্ষী গোলাম রব্বানীকে বৈরী হিসেবে ঘোষণা করে আদালতে সরকারপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সত্ত্বেও তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ওই দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ২৭ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলাকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ঢাকাগামী খলিল এন্টারপ্রাইজের নাইটকোচটি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন এলাকায় আসলে জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসের মধ্যেই এক শিশুসহ ছয় বাসযাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে নিহত হন। আহত হন আরও ২৫ যাত্রী। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৩২ জামায়াত শিবির নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত ৫৪ জন নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। এখনও ৭৮ জন আসামি পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ চলছে।
সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক ও আসামিপক্ষে আছেন আব্দুর রশীদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
/বিটি/এএইচ/