সীমান্ত থেকে সন্তানসহ বাড়ি যাননি সেই দম্পতি, আছেন কোথায়?

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের ‍শূন্যরেখায় দুই শিশুসন্তান নিয়ে চার দিনের অমানবিক অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন আলোচিত সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন। তাদের দুই শিশু সন্তানও ভালো আছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বেলালের পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে ওই দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গয়টাপাড়া সীমান্ত থেকে সরিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি ও রৌমারী থানা পুলিশ। সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান। তবে রহস্যজনকভাকে বিজিবি কিংবা পুলিশ কোনও পক্ষই গণমাধ্যমে এ তথ্য স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানায়।

জামালপুর বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশুসহ ওই দম্পতির না থাকার বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করলেও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিজিবি অধিনায়ক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘রৌমারীর ইজলামারী সীমান্তে ৩ জন এবং গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জনসহ মোট ৫ জন আগের অবস্থানে রয়েছে। দুই শিশুসহ ওই দম্পতি এখন রৌমারী সীমান্তে নেই।’ তবে সরিয়ে নেওয়া চার জনের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বেলাল-সুমি দম্পতির অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেয় বাংলা ট্রিবিউন। তাদের পরিবার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বেলাল ও তার স্ত্রী সন্তানদের সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা ময়মনসিংহে পৌঁছালেও ভালুকা উপজেলার বিরানিয়া ইউনিয়নের কংসেরকুল গ্রামে নিজ বাড়িতে যাননি। গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে তারা বৃহস্পতিবারই ময়মনসিংহ হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে যান। দুই দিন ধরে তারা সেখানেই ‘নিরাপদ আশ্রয়ে আছেন, ভালো আছেন’। আপাতত তারা গ্রামের বাড়ি ফিরবেন না।

‘চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই খালি চাপ দিতাছে। সাংবাদিকরা খোঁজ নিতাছে। সবাই খালি জিগায় ‘‘বেলাল কই আছে’’? বেলাল বাড়িতে আহে নাই। তারে দূরে রাখছি। তার এক চাচা তাদের গাজীপুরে রাইখা আসছে। সেখানে বৌ-বাচ্চাদের নিয়া ভালা আছে।’ বেলালের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য করে সূত্রটি।

আলাপচারিতায় মনে হয়, অজানা এক আতঙ্ক পরিবারটিকে তাড়া করছে। বেলাল-সুমি দম্পতির অবস্থান জানানো যেন মানা!

বেলালের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তার মা হাসনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বেলাল বাড়ি নাই। কই আছে জানি না।’ কণ্ঠে গোপনীয়তার ছাপ রেখে ফোন রেখে দেন এই মা।

এর আগে গত রবিবার (১৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা ক‌রে‌ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ। সেই থেকে টানা চার দিন নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে মাথার ওপর রোদ-বৃষ্টি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের ঘিরে রাখে বিজিবি ও বিএসএফ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দুই শিশুর প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক দিক বিবেচনায় দম্পতিকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন নামে ওই দম্পতির দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে গোয়াহাটি পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। গত রবিবার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।