আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন

ব্রহ্মপুত্র নদে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে এলাকার শত শত পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

গত ৩ দিনে ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার ৭৫টি পরিবার নদী ভাঙনের মুখে ঘরবাড়ি অন্যস্থানে সরিয়ে নিয়েছে। দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্যস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে নির্মিত ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়ার রতনপুর, কালাসোনা, উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া, গজারিয়ার গলনা, কামারপাড়া, জিয়াডাঙ্গা, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, জোড়াবাড়ি, সাতারকান্দি গ্রামেও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

উত্তর খাটিয়ামারী গ্রামের আব্দুল জোব্বার বলেন, ‘নদী ভাঙনের কবলে পড়ি প্রত্যেক বছরেই হামার ঘরবাড়ি সরাতে সরাতে (স্থানান্তর) নিঃস্ব হয়্যা গেনু। তাও রাক্ষসী গাঙ্গের প্যাটের (পেট) ক্ষিদ্যা ( ক্ষুধা)  মেটে না। আর সরকারও ক্যানা এর কোনও বিহিত ব্যবস্থা করে না।’

ফজলুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, এর আগে কখনও চৈত্র মাসে এভাবে নদী ভাঙন দেখা যায়নি। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ। প্রায় ১৫টি পয়েন্টে এখন নদী ভাঙন চলছে। গত এক সপ্তাহে ওই ইউনিয়নের চন্দনস্বর, উত্তর খাটিয়ামারী, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, কুচখালী, নিশ্চিন্তপুর ও কাউয়াবাঁধা গ্রামের ৭৫টি পরিবার নদী ভাঙনের মুখে তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বেশকিছু আবাদি জমি, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া ২০১০ সালে নির্মিত ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবনটি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন

নববর্ষে বিনামূল্যে পানি ও হাতপাখা দেবে র‌্যাব

ফুলছড়ির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ সরকার বলেন, নদী ভাঙনের কারণে ওই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করায় কয়েক’শ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া গৃহহীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়ার গজারিয়ার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামেও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার জানান, এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়তে পারেন

স্নানোৎসব শুরু রাতে, পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মুখর ব্রহ্মপুত্র

 

/এসটি/