সেদিন শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে তার একটা হাড়ও খুঁজে পাওয়া যেতো না: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ৫ আগস্ট যখন কোটি কোটি ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলো, সেদিন যদি শেখ হাসিনা পালিয়ে না যেতো বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ শেখ হাসিনার এমন অবস্থা করতো, তার একটা হাড়ও খুঁজে পাওয়া যেতো না। একটা মাংসের টুকরাও খুঁজে পাওয়া যেতো না। 

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের হিলি বাজারের খাদ্যগুদাম মোড়ে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কমংসংস্থান বৃদ্ধি ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে এনসিপি হাকিমপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।  

সারজিস আলম বলেন, শেখ হাসিনা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে যেই জুলুম করেছে, বিএনপি, জামায়াত কোনও কিছু বাদ রাখে নাই৷ অপরাধ, নিরপরাধী কিছু দেখে নাই। মানুষকে গুম করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে, খুন করেছে, হত্যা করেছে। শেষে নির্লজ্জভাবে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। একটা খুনিকে, একটা গণহত্যাকারীকে যে আশ্রয় দেয়, সেই তো তার সবচেয়ে বড় বন্ধু। সেখানেই তো তার শেকড়। ওরা জালিম ছিল, এই জালিমদের মধ্যে যারা এখনও বিভিন্নভাবে উৎপাতের চেষ্টা করছে, আমরা যেন তাদের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকি। যারা জালিমকে প্রশ্রয় দেবে, আশ্রয় দেবে, মনে রাখবেন তারাও তাদের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। যারা নিরপরাধ, তাদেরকে নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু যারা অপরাধী তাদেরকে যদি কেউ প্রশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়ে যাবো। 

সারজিস আরও বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু ভারত যদি কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণ করে বারবার, যে তারা আমাদের প্রতিবেশী হতে পারে কিন্তু তারা দাদাগিরি করতে চায়, আধিপত্যবাদ বহাল করতে চায়, তাহলে আমরা ভারতকে বলতে চাই এই ধরনের প্রতিবেশীকে আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র মনে করি না। যারা একজন গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেয়, যারা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, যারা আমার দেশকে ন্যায্য পানির হিস্যা বুঝিয়ে দেয় না, যারা খরার সময় পানি আটকে রাখে, বর্ষার সময় পানি ছেড়ে দিয়ে আমার লক্ষ মানুষকে হত্যার কর্মযজ্ঞ করে, তারা কোনোদিন আমাদের বন্ধু হতে পারে না। তারা কোনোদিন আমাদের প্রতিবেশী হতে পারে না। আগামীর বাংলাদেশে একটা ফেলানী হত্যা হলে, একটা সীমান্ত হত্যা হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিজিবির ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে হবে। 

সভায় দলের সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সকলে প্রত্যাশা করেছিলাম যে একটা নতুন বাংলাদেশ আমরা পাবো। যে বাংলাদেশে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। যে বাংলাদেশে মানুষ চাকরি পাবে কোনও ঘুষ ছাড়া, যে বাংলাদেশে মেধার মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন রাষ্ট্রটা গড়ার জন্য ভোট দিয়েছিল, সেই ভোটটাকেই এখন আর কার্যকর করা হচ্ছে না। আমরা দুইটা ভোট দিয়েছি। সরকার গঠনের ভোট, গণভোট। তারা সরকার গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু গণভোট আর মানে না। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন আশাহত হয়ে পড়েছে। যারা ভোটের আগে বলে, 'গণভোটে হ্যাঁ দিন', ভোটের পরে গণভোট আর মানে না, তাদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না। 

পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আব্দুল আহাদ, উপজেলা জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলাম, এনসিপির স্থানীয় নেতা ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।