রংপুরের পীরগাছা বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির (বিএম কলেজ) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা জানাজানি হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর শিক্ষার্থীর স্বজনরা ওই শিক্ষকের গ্রেফতার দাবি করেছেন।
গত বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শোনা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর দেওয়া এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিচ্ছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিক্ষককে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ভাইরাল হওয়ার পর পুরো পীরগাছা উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদেরের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার ওই কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অবস্থা বেগতিক দেখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের কলেজ থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাক্কি জায়িদ ইমরুল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে তাকে অপসারণ ও গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের স্থান। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি শিক্ষকতার মর্যাদা হারিয়েছেন। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। শুক্রবার ওই কলেজের সিনিয়র শিক্ষক আইয়ুব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাক্কি জায়িদ ইমরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।