কয়েক যুগের গ্লানি, বঞ্চনা আর পরিচয়হীনতার দুঃখ ঘুচলেও তাদের মনে এক ধরণের শঙ্কা ছিল। ভূমি এক হলেও নিজেরা বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন তো! তাদের সেই শঙ্কা ভেঙে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তিনি কাছে গিয়ে তাদের আপন করে নেওয়ার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাদের বাকি মানসিক দ্বন্দ্বটুকুও দূর হয়েছে, আজ স্থানীয় প্রশাসনের আমন্ত্রণে। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মিশে বাঙ্গালির প্রাণের উৎসবে অংশ নিতে পেরে দাশিয়ারছড়ার অধিবাসিরা আজ বাংলাদেশি হিসেবে পূর্ণতার স্বাদ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে তারাও আজ অংশ নিয়েছে মঙ্গল শোভা যাত্রায়।
আরও পড়তে পারেন:
বর্ষবরণে কদর কমেছে পান্তা- ইলিশের
বর্ষবরণ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া দাশিয়ারছড়ার বাসিন্দা রুবেল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নিজেদের জড়তা কাটিয়ে আজ যে উৎসবে আমরা মেতে উঠতে পেরেছি তার কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রমাণ করেছে আমরা কোনোভাবেই আর পৃথক নই। এত বছর পর আমাদের বর্ষবরণের আনন্দ পূর্ণতা পেয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির (বর্তমানে বিলুপ্ত) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশিয়ারছড়ার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা জানান, ‘আমরা অভিভুত। ৬৮ বছর ধরে যা পাইনি মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তা নিজেদের কাছে এত ভালবাসা নিয়ে ধরা দিবে তা কল্পনাতীত। বাংলাদেশের মানুষ যে ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আপন করে নিয়েছে তা বিলুপ্ত ছিটমহলের আগামী প্রজন্ম হৃদয়ে ধারণ করবে।’
এদিকে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বিলুপ্ত ছিটবাসীদের উপস্থিতিতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পূর্ণতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। তিনি জানান, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রশাসনের আমন্ত্রণে তারা সাড়া দিয়েছে। বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা পূর্ণতা পেয়েছে।’
আরও পড়তে পারেন:
কুকুর নিয়ে বেকায়দায় গুলশান থানা
আগামী দিনগুলোতে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসি দেশের সব জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নিবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
/জেবি/