১৬ শিক্ষকের ৪ শিক্ষার্থী, পাস করেনি একজনও

কোনও স্কুলে ১২ জন শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ১২ জন। আবার কোনোটিতে শিক্ষক ১৬ জন, পরীক্ষার্থী মাত্র চার জন। তবুও ওই স্কুলগুলো থেকে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক জন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। কুড়িগ্রামে এ বছর এমন চারটি স্কুলে শিক্ষার্থী পাশের হার শূন্য। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদ্যালয়গুলো হলো কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়, একই উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, এ বছর কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৬৪৭ জন, পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।

রাজারহাট উপজেলার কোনও শিক্ষার্থী পাস না করা তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। এবার প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টি থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১২ জন শিক্ষকের এই স্কুল থেকে কোনও শিক্ষার্থী এসএসসিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক অজয় কুমার সরকার বলেন, ‘মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এ ছাড়া বিদ্যালয়টি উপজেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়।’

উপজেলার আরেক স্কুল ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক নেই। ৯ শিক্ষকের এই স্কুলে পাসের হার শূন্য।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের একজন বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বাকি চার জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে কেউই পাস করতে পারেনি। আগামীতে ফলাফল ভালো করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাশ করেনি। ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র এক জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উর্ত্তীণ হতে পারেনি।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’