রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে তিন যুবককে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ট্যাগ দিয়ে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বুলবুল আহম্মেদ গত ২৩ আগস্ট রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে ডিবি পুলিশের এসআই আবু সাইদ বাবলা, কনস্টেবল আতিক, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শরিফুল ইসলামের দেহরক্ষী কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১৯ আগস্ট রাতে নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য রংপুর নগরীতে আসেন তিন বন্ধু। বাড়ি ফেরার পথে নগরীর বুড়িরহাট সংলগ্ন আনান সিটির সামনে ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কোনও কারণ না জানিয়ে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয় এবং সঙ্গে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন ও ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের ডিবি পুলিশের মোটরসাইকেলে তুলে নগরীর জাহাজ কোম্পানি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে হাতকড়া পরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পায়ের তলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতের দিকে তাদের ওই হোটেল থেকে পায়রা চত্বরের কাছে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে এসআই আবু সাইদ বাবলা তাদের একজনের মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগে বলা হয়, পরে ভোর ৬টার দিকে ডিবি পুলিশের দুই সদস্য মোটরসাইকেলে করে গঙ্গাচড়া থানার মহিপুর সেতু এলাকায় যান। সেখানে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পাঠানো ৩ লাখ টাকা দুই পুলিশ সদস্য গ্রহণ করেন। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে তিন বন্ধুর কাছ থেকে তিনটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাদের মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হলেও তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী বুলবুল আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অন্যায়ভাবে আটক করে রংপুর নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আবারও নির্যাতন করে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমাদের তিন জনের মোবাইল ফোন এখনও ফেরত দেয়নি ডিবি পুলিশ।’
অভিযোগকারী বুলবুলের সঙ্গে থাকা হাবিব হাসান লিমন ও বিপ্লব হোসেনও একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, যে আবাসিক হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল, সেখানকার ভিডিও ফুটেজ এবং ডিবি কার্যালয়ের ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। টাকা চাওয়ার কথোপকথনের তথ্যও তাদের কাছে রয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিবির এসআই আবু সাইদ বাবলার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তাদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এসআই আবু সাইদ বাবলার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে ডিবি পুলিশের আরও কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে ডিবি পুলিশ।