কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের (৪০) বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ছাত্রীকেও নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নাগেশ্বরী থানার ওসি এনামুল হক ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ও স্কুলে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বরাতে প্রধান শিক্ষক জানান, সোমবার দুপুরে স্কুল বিরতির সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওয়াশরুমের কাছে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন। তাকে ওয়াশরুমের ভিতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। বিষয়টি স্কুলে থাকা কিছু ছাত্র-ছাত্রীর নজরে এলে তারা দ্রুত ওয়াশরুমের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এ সময় ভেতর থেকে শিক্ষক ও ছাত্রী বের হয়ে আসেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সোমবার ওই সময় আমি উপজেলা অফিসে ছিলাম। খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে ওই ছাত্রীসহ উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাই। ধর্ষণ করতে না পারলেও যৌন হয়রানি করেছে বলে জেনেছি। ততক্ষণে ওই শিক্ষক স্কুল থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরে জানতে পারি পুলিশ রাতে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়েছে। আমি বিষয়টি লিখিত আঁকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
ওসি এনামুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি চেষ্টার কথা জানিয়েছে। আমরা তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখেছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে রাতে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ছাত্রীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় সরকার বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ঘটনার প্রাথমিক সত্যটা পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’