এবার আরেক সাংবাদিককে ‘গুমের হুমকি’ দিলেন সেই এসিল্যান্ড

এবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার আরেক সাংবাদিককে গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে। প্রাণনাশ ও গুমের আশঙ্কায় রৌমারী থানায় সাধারণ ডায়রির (জিডি) আবেদন করেছেন হুমকির শিকার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন।

রৌমারী থানার ওসি জিডির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জিডি নথিভুক্ত করেননি বলে জানিয়েছেন।

সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক কালবেলা পত্রিকার রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি। উপজেলার সক্রিয় সাংবাদিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সমাজ ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের নানা অসঙ্গতি এবং অনিয়ম নিয়ে তিনি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সম্প্রতি এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তিনি একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতেই সংক্ষুব্ধ হয়ে এসিল্যান্ড গুমের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সাখাওয়াত।

সাংবাদিক সাখাওয়াত বলেন, ‘রৌমারীর সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে জানতে আমি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের সরকারি নম্বরে ফোন দেই। এ সময় তিনি আমার পূর্বের করা প্রতিবেদনের জের টেনে গুম এবং হত্যার হুমকি দেন। এমনকি আমাকে মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেন। পরে আমি বিষয়টি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করি। সবার পরামর্শে বৃহস্পতিবার রাতেই রৌমারী থানায় জিডির আবেদন করেছি।’

সাখাওয়াত বলেন, ‘ফোন করা মাত্রই এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কথ‌পোকথনকা‌লে সরাসরি মামলা, গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এসিল্যান্ড আমাকে বলেন, “আমি তো চলে যাবো, তবে আমার বিরুদ্ধে যে রিপোর্টগুলো করেছেন সে জন্য আপনাকে দেখে ছাড়বো। কোথায় যাবেন! মামলা করা হবে, নাকি গুম হবেন, নাকি হত্যা করা হবে তা সময় বলে দেবে।” বিষয়টি নিয়ে আমিও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই থানায় জিডির আবেদন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ জিডি নথিভুক্ত করছে না।’

এসি ল্যান্ড রাফিউরের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক সাখাওয়াত বলেন, ‘গত ১৪ মে “ঘুষ না দেওয়ায় ভুল রায় দিলেন এসিল্যান্ড” এবং ৮ জুলাই “চেইনম্যানকে কানুনগো বানিয়ে ঘুষ বাণিজ্য” শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করি। এরপর থেকে তি‌নি আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছি‌লেন। তিনি যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিক সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছেন তেমনি আমাকেও কাউকে দিয়ে গুম কিংবা হত্যা করতে পারেন। এই এসিল্যান্ড দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ। তার মধ্যে প্রতিশোধ প্রবণতা প্রবল। আমি তার হাত থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।’

এ বিষয়ে জানতে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি এই প্রতিবেদকের ফোন নম্বর ব্লক করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তাকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। মেসেজ দিয়ে জানতে চাইলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।

ওসি বলেন, ‘আমি আবেদন পেয়েছি। আমরা বিষয়টি দেখছি। যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’