ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু, প্রথম ধাপে পাচ্ছেন আড়াই হাজারের বেশি কৃষক

কৃষকদের সরকারি সহায়তা ও কৃষিসেবা সহজে পৌঁছে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের নারগুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রাথমিক পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সদর ও রুহিয়া এলাকার ২ হাজার ৫১৭ জন কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪৮ জন এবং রুহিয়া এলাকার ১ হাজার ৩৬৯ জন কৃষক রয়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জরিপের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১১ হাজার ৬৪৮ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই তালিকার ভিত্তিতে কৃষকদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া কৃষকদের জন্য আরও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া ব্লকের ৯৬৫ জন এবং রুহিয়া এলাকার কুজিশহর ব্লকের ১ হাজার ১৭২ জন কৃষক কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন। অর্থাৎ অনুষ্ঠানে মোট ২ হাজার ১৩৭ জন কৃষক এ সহায়তা পেয়েছেন।

কৃষক কার্ড হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়। কয়েকজন কৃষক জানান, সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তাদের জন্য স্বস্তির।

একজন উপকারভোগী কৃষক বলেন, কৃষক কার্ড পেয়ে আমরা আনন্দিত। এর মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষিকাজে এই সহায়তা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরেক কৃষক বলেন, কৃষক হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সহজে পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। নিয়মিত কৃষি সহায়তা পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি কৃষিকাজে আগ্রহও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক হাতেম আলী, ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার আরও কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।