তাদের এমপির বিরুদ্ধে মামলাই হয়নি, অথচ তদন্তের আগেই আখতারুজ্জামান গ্রেফতার: এ টি এম আজহার

জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার অপরাধ তিনি বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এসব করে জামায়াতকে জেল-জুলুমের ভয় দেখাবেন না। আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেও আমাদের আটকানো যায়নি।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টায় জামায়াতের রংপুর জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো, এজন্য দায়ী তাদের এমপিকে লোক দেখানো পদত্যাগ করানো হলো। তাদের এমপি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনও মামলাই হয়নি, গ্রেফতারও করা হলো না। অথচ বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় তদন্ত সম্পন্ন করার আগেই আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হলো।’

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে কোনও আইনশৃঙ্খলা নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন সবজান্তা মন্ত্রী। তিনি এখন সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন। নতুন নতুন ছবক দেন। অথচ নিজের মন্ত্রণালয়টা চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যারা টকশো করেন, তারা বলেন জামায়াতে গেলে নেতা হওয়া যায় না। আমরা দেখতে পেলাম আখতারুজ্জামানকে জামায়াতের নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ তার দলকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তিনি আমাদের সহযোগী সদস্য, সবেমাত্র প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন। এরপর আমরা কর্মী বলি। এরপরে সদস্য বলি। তারপরে জামায়াতের নেতা হয়। নেতা হওয়ার প্রশ্ন আসে না, আখতারুজ্জামান একজন সাধারণ সদস্য।’

এ সময় আজহারুল ইসলাম রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক হিসেবে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন; মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (হার্ড রক) দ্বিতীয় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন; সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আধুনিকায়ন; দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন; রংপুর বিভাগের অবকাঠামো উন্নয়ন; রংপুর বিভাগের সকল উপজেলায় মহিলা কলেজকে সরকারিকরণ; রংপুর বিভাগের সব জেলায় নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; রংপুর বিভাগীয় শহরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন; রংপুর বিভাগে গ্যাস লাইন সংযোগ এবং সরবরাহ; রংপুর বিভাগে ট্রেন যোগাযোগ আধুনিকায়ণ এবং ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি; কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন; রংপুর বিভাগের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ণ ও রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ; রংপুর বিভাগের সব জেলা শহরকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরীর আমীর এটিএম আজম খান, রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর -৫ মিঠাপুকুর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীসহ রংপুর বিভাগের জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ১৪ জন সংসদ সদস্য।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছরেও রংপুর বিভাগের তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। এ সময়ে যে দলগুলো ক্ষমতায় এসেছে কোনও দলই রংপুর বিভাগের উন্নয়নের জন্য কিছু করেনি। আমরা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। এ জন্য অতীতে সরকারগুলো ছিল অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ। যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যেতো তাহলে বাংলাদেশ আজ সিঙ্গাপুরের চেয়েও বড় ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতো। এজন্য সংসদে ও সংসদের বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা রংপুর বিভাগের সব জামায়াত এমপি।’