নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বিক্রি নকল ভুট্টার বীজ

ভুট্টা চাষের জন্য পরিচিত জেলা লালমনিরহাট। চাষের মৌসুম সামনে রেখে জেলায় ভুট্টার বীজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে ভুট্টার বীজ প্যাকেটজাত করার অভিযোগে জেলার পাটগ্রামে একটি গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাটগ্রাম পৌরসভার রসুলগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুদামটি সিলগালা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর পরিচিত ব্র্যান্ডের বীজ কিনেও প্রত্যাশিত ফলন পান না তারা। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, আল আমিন নামে এক ব্যক্তি জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে গুদামটি ভাড়া নিয়ে সেখানে ভুট্টার বীজ প্যাকেটজাত করছিলেন। এ সময় কৃষকদের কাছে পরিচিত ‘বাহুবলি-৫৫৫’সহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ বীজ ও মোড়ক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত গুদামটি সিলগালা করেন।

পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, ‘বীজ আসল না নকল, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আমাদের নয়। বিষয়টি জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস দেখে। উপজেলা কৃষি বিভাগ হিসেবে আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। তবে গুদামটিতে বীজ প্যাকেটজাত করার উপযুক্ত পরিবেশ ছিলো না।’

লালমনিরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা শামিমুর রহমান বলেন, বীজ আমদানির অনুমতি দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঢাকার কার্যালয়। এ ক্ষেত্রে তাদের দফতরের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি সেপ্টেম্বর মাসে ‘নেতাজি’ নামের একটি বীজ আমদানি করেছেন। তবে ‘বাহুবলি’ ব্র্যান্ডের মোড়কে বীজ প্যাকেটজাত করার বিষয়ে তিনি কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘বাহুবলি-৫৫৫’ ভুট্টার বীজ ভারতের বিজেতা সিডস কোম্পানির বলে জানা গেছে। নির্ধারিত নিয়মে এ বীজ আমদানি করার কথা। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে কোম্পানিটির মোড়ক পেয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল আমিন। তার দাবি, ভারতের বিজেতা সিডস কোম্পানি থেকে বীজ আমদানি করা হয়েছে এবং কোম্পানির সরবরাহ করা ‘বাহুবলি-৫৫৫’ ব্র্যান্ডের মোড়কেই সেগুলো প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।

আল আমিন বলেন, আমার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। আমি সেগুলো কৃষি কর্মকর্তাকে সরবরাহ করব। এসব বীজ নকল নয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাটগ্রামের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুদামটিতে অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।