শীত আসতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি, তবে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এরই মধ্যে অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডার ছোঁয়া। দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর নামছে শীতের আমেজ। রাত পেরিয়ে ভোরে বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব। মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সন্ধ্যার পর থেকে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। রাতভর কুয়াশা পড়ার পর ভোরে তা আরও ঘন হয়। তবে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত কমে আসে কুয়াশার পরিমাণ। এভাবেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যে বদলে যাচ্ছে জেলার আবহাওয়া।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬টায় সেখানে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, সোমবার বিকাল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইজিবাইকচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। আগে সকালে তেমন শীত লাগত না। এখন ভোরে গাড়ি নিয়ে বের হলে হালকা গরম কাপড় সঙ্গে রাখতে হয়। ঠান্ডার কারণে সকালে গাড়ি চালাতেও কষ্ট হচ্ছে।
পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা মকছেদুল ইসলাম বলেন, শীত পুরোপুরি আসতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর হালকা পোশাকে মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতে পাতলা কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে ফ্যানও বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তিনি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় হিমালয় থেকে আসা বাতাসের প্রভাবে তাপমাত্রা কমছে। এতে জেলায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে বৃষ্টির প্রভাব কেটে গেলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।