আবারও হারলেন জামায়াতের দেলাওয়ার, পেলেন আগের চেয়ে কয়েক হাজার কম ভোট

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে এই আসনে দ্বিতীয়বারের মতো পরাজিত হলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার। একইসঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যত ভোট পেয়েছিলেন তার চেয়ে এবার কম পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। হিসাবে মির্জা ফখরুলের কাছে ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন দেলাওয়ার। এবার হারলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে। তবে প্রথমবার ভোট দেখে এবার জয়ের আশা করেছিলেন দেলাওয়ার। কিন্তু মির্জা ফখরুলের ভাইয়ের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলে উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

গত ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে মো. দেলাওয়ার হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম ওই ঘোষণা দেন। দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে মির্জা ফয়সল আমীনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। এর আগে সকাল ৮টা থেকে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর গণনা শুরু হয়। 

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে আজ ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এবারের নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।