হাজিরা দিয়ে উধাও রংপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিত না হওয়া এবং সেবা দিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া যায় না। অনেক সময় দিনের বেলা গড়ালেও সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয় না।

রবিবার সকাল ৯টায় নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় শিক্ষা কমপ্লেক্স চত্বরে অবস্থিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৪ মিনিটে নৈশপ্রহরী অফিসের প্রধান কলাপসিবল গেট খুলে দেন। তবে তখন পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে দেখা যায়নি।

সকাল ৯টা ২২ মিনিটে অফিসে আসেন ক্যাশিয়ার। এরপর একে একে আসেন অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটরসহ অন্যান্য কর্মচারীরা। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। এক নারী কর্মচারী দাঁতের ব্যথার কারণে দেরি হওয়ার কথা বলেন। আরেকজন জানান, মোটরসাইকেলের চাকা পাংচার হওয়ায় সময়মতো আসতে পারেননি। অন্যদিকে, এক কর্মচারী রিকশা পেতে দেরি হওয়ার কথা জানান। আরেকজন অসুস্থতার কারণে নাশতা ও ওষুধ খেয়ে আসতে দেরি হয়েছে বলে জানান।

সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে রিকশায় করে অফিসে আসেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাজাহান সিদ্দিক। তিনি জানান, সকাল ৭টায় একজন উপপরিচালককে অভ্যর্থনা জানাতে অফিসে এসেছিলেন। পরে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেরি হয়েছে। তবে নৈশপ্রহরী সকাল ৯টা ৪ মিনিটে গেট খুলেছেন এমন তথ্য জানালে তিনি বলেন, নৈশপ্রহরী কী বলেছেন, সেটি তার জানা নেই। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অফিসের বাইরে অপেক্ষা করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।

সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামসহ আরও চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি। তাদের নির্ধারিত টেবিলগুলোও তখন ফাঁকা ছিল। এদিকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে আসা লোকজনকে অফিসের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

মিঠাপুকুর উপজেলার মিলনপুর এলাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক সোলায়মান আলী বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সেবা পেতে তাকে সাত দিন ধরে ঘুরতে হচ্ছে। একটি আবেদন জমা দিতেও তাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, অফিসের কার্যক্রম সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে দেরিতে আসেন। কেউ কেউ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আবার বাইরে চলে যান।

বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর থেকে আসা সালমা বেগম বলেন, তিনি এক মাস আগে অবসরে গেছেন। অবসরসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে ১৫ দিন ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘুরছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাজাহান সিদ্দিকের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তার কক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সালমা বেগমের অভিযোগ, টাকা ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাজাহান সিদ্দিকের সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা বলতে গেলে তিনি অভিযোগকারীদের সামনে নিয়ে আসতে বলেন। পরে তিনি নিজেকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।