শ্রীমঙ্গলে সহপাঠীর হামলায় ৩ শিক্ষার্থী আহত

আহত দুই শিক্ষার্থীমৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সহপাঠীর হামলায় ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত নবম শ্রেণির ছাত্র মো. রিমন (১৫) ও দশম শ্রেণির ছাত্র মো. তামিমকে (১৬) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গত ৩০ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরের দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আহত অপর শিক্ষার্থী হল ৯ম শ্রেণির শামীমা আক্তার (১৫)।

জানা গেছে, ভৈরবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সঞ্জিত রায়ের ছেলে ও ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র শুভ রায় (১৬) বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিকাশ রায়ের সঙ্গে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বেয়াদবি করে। একপর্যায়ে শুভর সহপাঠী তামিম স্যারের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে বললে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর শুভ বিদ্যালয়ে এসে ছুরি দিয়ে তামিম ও রিমনকে আঘাত করে। এসময় বাধা দিতে এলে সে শামীমাকেও ছুরিকাঘাত করে।

পরে আহতদের দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শামীমাকে বাড়িতে পাঠানো হলেও তামিম ও রিমনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়তে পারেন: অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি

আহত তামিমের চাচা আবুল কালাম আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ঘটনা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটলেও বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে যাননি। অবশ্য হাসপাতালে নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজুল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রতীশ কুমার দেব আহতদের দেখতে যান।

ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নান্টু রায় বলেন, এমন সন্ত্রাসী ঘটনা বিদ্যালয়ে এটাই প্রথম। ঘটনার পর শুভ ও তার বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি রবিবার আহতদের দেখতে গিয়েছি। আর ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিকাশ স্যারকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/এমও/