অতিবৃষ্টি ও টানা বর্ষণে মৌলভীবাজার পৌর শহরের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন পাড়ার রাস্তা এবং দুই শতাধিক বাসা ও দোকানে পানি উঠেছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিপাতে এই অবস্থার সৃষ্ট হয়। এতে পৌরবাসীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পানির নালা উপচে রাস্তা, দোকানঘর ও বাসাবাড়িতে পানি ওঠে।
এতে ব্যবসায়ী, বাসাবাড়ির লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহান। এদিকে শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের চৌমোহনা এলাকার ম্যানেজার স্টলে গিয়ে দেখা যায়, এক-দেড় ফুট পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে বেচাকেনা চলছে। একই এলাকার আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে প্রায় হাঁটুপানি।
সাইফুর রহমান সড়কের হামিদিয়া পয়েন্ট এলাকায় হাঁটুপানি জমে গেছে। এতে ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কুসুমবাগ এলাকায়ও পানি থইথই করছে। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পশ্চিমবাজারের অনেক দোকানে পানি উঠেছে। শহরের পূর্ব গির্জাপাড়ায় এলাকায় দেখা যায়, এলাকার প্রধান সড়কের প্রবেশমুখে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে মশারি দিয়ে মাছ ধরছেন সাজেদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন। এ পাড়ার দুই-একটি বাসা ছাড়া সব বাসাতেই পানি উঠেছে।
টিবি হাসপাতাল সড়কের কলেজ স্টেডিয়াম এলাকায় প্রায় কোমর সমান পানি ঠেলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে দেখা গেছে।
সৈয়ারপুরের শৈলেন রায় বলেন, ‘সৈয়ারপুর লক্ষ্মীবালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। আমি মনু নদীর পাড় হয়ে বাসায় গিয়েছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের সার্কিট হাউস এলাকা, টিবি হাসপাতাল রোড, কাশীনাথ রোড, সৈয়ারপুর স্কুল রোড, মাঝেরহাটি সড়ক, রিয়াছত উল্লা সড়ক, শান্তিবাগ, সৈয়দ মুজতবা আলী সড়ক (পুরাতন হাসপাতাল রোড), গোবিন্দশ্রী, বড়হাট, শেখেরগাঁও, বেরিরচর, কাজিরগাঁও, আরামবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে এক থেকে তিন-চার ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে।
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, এত বৃষ্টি হয়েছে, পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম যে কোদালীছড়া সেটি পানি ধারণ করতে পারছে না। পৌর এলাকার নালা ও কোদালীছড়ার অংশ পরিষ্কার হলেও শহরের বাইরের নাজিরাবাদ ও মোস্তাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এলাকায় ভূমিদস্যুরা ছড়া দখল করায় বিভিন্ন স্থানে সেটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে পানি দ্রুত সরতে পারছে না।
আরও পড়ুন:
/টিএন/এইচকে/