হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যাকাণ্ড

৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর, মামলা স্থানান্তর

হবিগঞ্জে চার শিশু হত্যা
 হবিগঞ্জের বাহুবলে চাঞ্চল্যকর চার শিশু হত্যা মামলায় সাত আসামির জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। সেই সঙ্গে মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আব্দুল আলীসহ ৭ আসামির জামিন আবেদন করা হয়েছিল, তবে আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন।

দুপুরে শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আগামী ৯ জুন।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া, শাহেদ মিয়া, সালেহ উদ্দিন ও বশির মিয়া।

গত ৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ডিবি) পুলিশের ওসি মোক্তাদির আলম ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া, শাহেদ মিয়া, বেলাল মিয়া, উস্তার মিয়া, সিএনজি চালক বাচ্চু মিয়া ও বাবুল মিয়া, সালেহ উদ্দিন ও বশির মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে আটক থাকা সালেহ উদ্দিন ও বশির মিয়াকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। এ মামলার অপর আসামি বাচ্চু মিয়া এরইমধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা গেছেন।

আরও পড়তে পারেন : চট্টগ্রামে পোস্টার লাগানোর সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যা



উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজ-এর ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদির-এর ছেলে ইসমাঈল হোসেন (১০) খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৫দিন পর  ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামের পাশ্ববর্তী স্থানে চার শিশুর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল আলীসহ ৭ জনকে আটক করে এবং ঘটনার অন্যতম আসামি বাচ্চু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে। এরইমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আব্দুল আলীর দুই ছেলেসহ ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

/জেবি/টিএন/