ওসমানী বিমানবন্দর বাইপাস-ভোলাগঞ্জ হাইওয়ে নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সই হয়েছে। সড়কটির এমনই বেহাল দশা যে ২০১৫ সালে পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এটাকে ‘ক্যান্সার’ আক্রান্ত সড়ক বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এ চুক্তি সই হয়। সওজ সিলেট জোনের সহকারী প্রকৌশলী নুরুল মজিদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে যন্ত্রপাতি আনা শুরু করেছেন। দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
সওজ-সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইফতেখার কবির এবং স্পেকট্রার চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড আগামী ৩৪ মাসের মধ্যে এ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যোগাযোগ সচিব এম এন সিদ্দিক, সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আব্দুল মোমেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, দেশের শতকরা ৭৫ ভাগ পাথরের চাহিদা পূরণ করে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি। সড়কটি নির্মিত হলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ আরও এগিয়ে যাবে।
‘ইম্প্রুভমেন্ট অব এয়ারপোর্ট বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ রোড অ্যাজ ন্যাশনাল হাইওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪৪৩ কোটি টাকা। সব প্রক্রিয়া শেষ করে মঙ্গলবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ চুক্তি সই হয়।
সওজের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার কবির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চুক্তি সইয়ের ২১ দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিচালকের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মপরিকল্পনা জমা দেবে। কর্মপরিকল্পনা সঠিক মনে হলেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি দু’টি প্যাকেজে বাস্তবায়িত হবে। ৩১ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ১৭ কিলোমিটার রাস্তা হবে ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের (বিটুমিনাস)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা। এ প্যাকেজে দুই স্প্যানের একটি ব্রিজও নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি কালভার্ট, ড্রেন, রিটেইনিং ওয়াল, স্টোন পাইল কমপ্যাক্টেড ও মাটির কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ১৩ কিলোমিটার রাস্তা হবে রিজিড পেভমেন্টের (কংক্রিটের)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প ব্যয়-আরও বাড়তে বা কমতে পারে।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে হঠাৎ চিনির বাজারে আগুন
/এসএনএইচ/টিএন/আপ-এআর/