মৌলভীবাজারে বাম হাতের তর্জনী ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সে বোমা বানাতে গিয়ে আটক হয়েছে। তবে কিশোরটির পরিবারের দাবি, সে খেলাচ্ছলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
জানা গেছে, বাম হাতের আঙুল ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় গত ১৬ জুলাই শনিবার সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হয় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রজব আলী (১৭) নামের এক কিশোর। দু’দিন এ হাসপাতালেরই একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল সে। এরপর সোমবার রাতে সিলেট নগর পুলিশের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ তাকে আটক করে। সে রাতেই তাকে মৌলভীবাজার নিয়ে যায় পুলিশ।
রজব আলী (১৭) কমলগঞ্জের ফুলবাড়ি চা বাগানের কর্মচারী ও বাসিন্দা চাঁন মিয়ার ছেলে।
পুলিশের সন্দেহ বোমা বানাতে গিয়ে রজবের হাতের আঙুল উড়ে গেছে। তবে আদৌ কোনও বোমা বানানোর তথ্য পুলিশের হাতে নেই। এরপরেও রজবের তর্জনি উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালা মিয়া নামে আরেক ব্যক্তিকে মঙ্গলবার দুপুরে আটক করেছে পুলিশ। কালা মিয়া রজবের চাচা।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোল্লা মো. শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরি করতে গিয়ে রজব আলী আঙুলে আঘাত পেয়েছে বলে শুনেছি। তাকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, তার নামে অভিযোগ শুনলেও এখন পর্যন্ত বোমা বানানোর কোনও আলামত পাইনি।
এদিকে, কমলগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, সোমবার রাতে তাকে আটক করে ওসমানী হাসপাতাল থেকে মৌলভীবাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। কেন বোমা বানাচ্ছিলো এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার ব্যাপারেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে, গত শুক্রবার বাড়ির পাশে ককটেল জাতীয় বোমা বানাতে রজব আলীর বাম হাতের তর্জনীর উপরিভাগ উড়ে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা গোপনে তাকে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে শনিবার সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন। রজব আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার বিজয়নগর উপজেলা রদৌলতকান্দির একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে তার পরিবার দাবি করেছে, ছাতার ডাঁটির ভেতরে দেশলাইয়ের বারুদ ভরতে গিয়ে বিস্ফোরণে রজব গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রজবও একই দাবি করেছে।
রজব আলীর বাবা চাঁন মিয়া বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী চা বাগানের শ্রমিক। আমার ছেলে বাড়িতে গরু দেখাশোনা করে। খেলাচ্ছলে ছাতার ডাঁটির ভিতরে দিয়াশলাইয়ের বারুদ ভরতে গিয়ে বিস্ফোরণে সে গুরুতর আহত হয়, পরে খবর পেয়ে আমি আমার আরেক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তাকে সিলেট এনে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।
/টিএন/
আরও পড়ুন: