সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার সাহেববাড়ির ঘাট,বড়পাড়া,তেঘরিয়া,মল্লিকপুর ওয়েজখালী,কালীপুর নবীনগরসহ বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের লোকজন। সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জেলার সবকটি নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অক্ষয়নগর,সদরগড়,ইব্রাহীমপুর, জগন্নাথপুর,মঈনপুর,হালুয়ারঘাট এলাকার নিম্নাঞ্চলের বসত বাড়িতে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে।
বাসনা বর্মণ জানান, ঘরের ভিতরে হাটু পানি। জিনিসপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। আর কিছু জিনিস উপরে তুলে রাখছি। রান্নাঘরের চুলা পানির নিচে চলে গেছে। তাই রাতে ভাত খেতে পারিনি।
জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তা বর্মণ জানান, বাড়িঘরে পানি, স্কুলে আসা যাওয়ার রাস্তায় পানি তাই স্কুলে যেতে পারিনি।
বদরুল হক জানান, পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনও সাহায্য সহযোগিতা পাননি তারা। ঢলের কারণে জেলার সর্ববৃহৎ ধোপাজান ও ফাজিলপুর বালিপাথর মহালের বালি, পাথর সংগ্রহ বন্ধ থাকায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার দিনযাপন করছেন। সাহেববাড়ি ঘাট এলাকায় সুরমা নদীতে শতাধিক কার্গো, বাল্কহেড, স্টিলবডি নৌকা নোঙর করে আছে। নৌযান শ্রমিক আবু তাহের জানান, নদীতে ঢল নামায় বালি, পাথর উত্তোলন বন্ধ। তাই নদীতে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের গৌবিন্দ বর্মণ জানান, টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক দূর থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। হাওর এলাকার গবাদিপশু নিয়ে কৃষকরা গো-খাদ্য সংকটের কারণে বিপদে পড়েছেন। কারণ ঢলের পানি খড়ের গাদা নষ্ট করে দিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসালাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে। জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সর্বশেষ অবস্থা প্রতি মুহূর্তে জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
যশোরে আরও পাঁচজনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ
/বিটি/