‘তামিম বিয়ানীবাজারের কলঙ্ক’

তামিম চৌধুরীনারায়ণগঞ্জে নিহত তামিম চৌধুরীর জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় মুখর এলাকাবাসী। তারা বলেন, সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে তামিম এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। সে এলাকার কলঙ্ক। তারা জঙ্গি তামিম চৌধুরীকে হত্যা করায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তামিমের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় আনন্দ মিছিল এবং মিষ্টি বিতরণও করা হয়েছে।

জঙ্গি তামিমের মৃত্যু সংবাদে মিষ্টি বিতরণবিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি। এ দেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, তামিম চৌধুরী বিয়ানীবাজারী হলেও তার সকল কর্মকাণ্ড প্রবাসে। এরপরও তামিমের জন্য আমরা বিব্রতবোধ করছি। তার জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডকে আমরা সমর্থন করি না; বরং তার কার্যক্রমকে ধিক্কার জানাই।

দুবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্জ নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি নিজে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এজন্য বুঝতে পারি দেশের জন্য প্রবাসীদের কত টান-মমতা। কিন্তু তামিম চৌধুরী জঙ্গি হয়ে দেশের বিরুদ্ধে যে কাজ করেছে তা নিন্দনীয়। তার এই কর্মকান্ড প্রবাসীদের ভাবমূর্তি ম্লান করে দিয়েছে। তামিম চৌধুরীর লাশ দুবাগে আনা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তামিমের চাচি আঙ্গুরা খাতুন বলেন, তামিমের মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের পরিবার কলঙ্ক মুক্ত হলো। এলাকার লোকদের কাছে আমরা এতোদিন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারিনি। পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়া ফোন আমাদের পরিবারের সদস্যদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল।

তিনি জানান, তামিম কখন কবে দেশে এসেছে-এটা তাদের জানা নেই। তিনি কোনদিন তামিমকে দেখেননি। তাদের পরিবারের কারো সঙ্গে তামিমের পরিবারের যোগযোগ ছিল না। তামিমের লাশ আনতেও পরিবারের কেউ যাবে না।

বড়গ্রামের বাসিন্দা মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘তামিম সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। পত্র পত্রিকায় দেখেছি সে  জঙ্গি মদদদাতা। আমাদের গ্রামের এই ছেলেটি ধর্মের নামে মানুষ হত্যায় জড়িত ছিল শুনে লজ্জিত। এমন দেশদ্রোহী জঙ্গির মরদেহ গ্রামে দাফন হোক তা আমরা চাই না।’

তামিমের প্রতিবেশি নাজমুল ইসলাম দুলাল জানান, তামিম জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গোটা এলাকার বদনাম করেছে। তার মরদেহ এ গ্রামে কিছুতেই দাফন করতে দেওয়া হবে না।

দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, পাঁচ বছর আগে কানাডা থেকে তামিম আহমদ চৌধুরী নিখোঁজ হন বলেন এলাকাবাসীর মুখে শুনেছি। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই বলেই জানেন এলাকার লোকজন। তবে তার মৃত্যুতে তার পরিবারসহ এলাকার লোকজন খুশি। অনেক স্থানে মিষ্টিও বিতরণ করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন চক্রবর্তী জানান, তামিমের এক চাচা দেশে থাকলেও তিনি ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাইরে থাকেন। তামিমের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে জানান ওসি।

b-22এদিকে, তামিমের মৃত্যু সংবাদে দুবাগ বাজারে শনিবার সন্ধ্যায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিল বের করে। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে জনসাধারণের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এস আর চৌধুরী তানু,  হুমায়ূন কবির পারভেজ, যুবলীগ নেতা ফয়ছল আহমদ, ইউপি সদস্য মোস্তফা আহমদ, ছাত্রনেতা জয়নাল উদ্দিন, ফাহিম আহমদ, জুনেদ আহমদ প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, তামিম মানুষ নামের কলঙ্ক। এই জঙ্গিকে হত্যা করায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান তারা।

প্রসঙ্গত,  শনিবার সকালে ‘নারায়ণগঞ্জে অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’- এ নিহত হয় তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি। কানাডা প্রবাসী তামিমের পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামে। তার বাবা শফিক আহমদ চৌধুরী ওরফে সোয়া মিয়া স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কানাডায় পাড়ি জমান। কানাডায় ১৯৮৬ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহণকারী তামিম কানাডার উইন্ডসর ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১১ সালে রসায়ন বিদ্যায় মাস্টার্স করে। সে ২০১২ সালে সিরিয়ায় যায় এবং উগ্রবাদী কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সে বাংলাদেশে আসে। সে গুলশান এবং শোলাকিয়া হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বলে জানিয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

আরও পড়ুন:

/বিটি/