ইউএনও মীর মাহবুবুর রহমান দখল হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজসহ শিল্পপতি রাগীব আলীর দখলে থাকা স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা ৭৯২৫ নং রিট সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে হস্তান্তরিত সম্পত্তি সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এর বাইরের সব স্থাপনা সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। হস্তান্তরিত স্থাপনার মধ্যে বেশীরভাগ বাসাবাড়ি।
তিনি বলেন, সেবায়েত এখন চা বাগানের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেবেন। প্রয়োজনে সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করবে।
অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছিলেন সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী। ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা তারাপুর চা-বাগান একটি দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন শিল্পপতি রাগীব আলী। রাগীব আলী ও তার স্ত্রীর নামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ ৩৩৭টি প্লট তৈরি করে বিক্রি করে দেন বলেও অভিযোগ উঠে।
গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। রায় বাস্তবায়ন করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, ৭১৫ জনের দখলে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো প্রশাসন বুধবার বুঝিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত রাগীব আলী আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কোনও টাকা দেননি। রাগীব আলী এরই মধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন। আশাকরি, আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করা যাবে।
আরও পড়ুন-
হোটেলে নাস্তা করতে গিয়েই ধরা খেলো ওবায়দুল
প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চেয়েছেন মীর কাসেম
/এফএস/