সত্তরের মনু সেতু হত্যাকাণ্ড

১৯৭১ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে শহরের মনু সেতুর হত্যাকাণ্ড। আর এই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হিলালপুর গ্রামের হাজী মো. আব্দুল মন্নান, হাজী মো. উস্তার মিয়া ও মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে কলমদর মিয়া।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তারা তিনজন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করেছিলেন বলে জানা যায়। পাকিস্তানি ও রাজাকারদের হাতে অত্যাচারিত হিন্দুধর্মাবলম্বীদের তারা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করতেন।

জানা গেল, মৌলভীবাজার শহরতলীর সোনাপুর গ্রামের তৎকালীন প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা হাজী ইনাম উল্ল্যার চক্ষুশূল হিসেবে গণ্য ঘরোয়া গ্রামের প্রসন্ন কুমার রায়ের সঙ্গেও তাদের ভাল সম্পর্ক ছিল।  তাই শহীদ আব্দুল মান্নান ও শহীদ উস্তার মিয়ার নামে হিন্দুদের মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়।

মনু নদীর ওপরকার সেই সেতুএই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯৭১ সালের ১২মে শহীদ আব্দুল মান্নান,শহীদ উস্তার মিয়া ও শহীদ সিরাজুল ইসলাম ওরফে কলমদর মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে আনে পাকিস্তানি বাহিনী। রশি দিয়ে হাত বেঁধে গাড়িতে করে তাদের তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। ঐ দিন রাতেই ব্রিগেড হেড-কোয়াটার্স দ্রুত তিন জনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।
পরদিন ১৩মে দুপুরে শহীদ হাজী উস্তার মিয়া ও শহিদ সিরাজুল ইসলাম ওরফে কলমদর মিয়াকে দু’হাত ও দু’চোখ বাঁধা অবস্থায় শহরের চাঁদনীঘাটের মনু সেতুর রেলিং এর সঙ্গে বেধেছিল পাকিস্তানী পাকিস্তানিরা। পাশাপাশি চারদিক থেকে মানুষ জন এনে মনু সেতুর ওপর জড়ো করা হয়েছিল এবং মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের জন্য সেনা কর্মকর্তার নির্দেশ মত শহীদ হাজী উস্তার মিয়া ও শহীদ সিরাজুল ইসলাম ওরফে কলমদর মিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর রশি কেটে  দুটি লাশ মনু নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। শহীদ হাজী আব্দুল মন্নানকে প্রকাশ্যে হত্যা না করে বর্ষিজোড়ার পাহাড়ে মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
শহীদ সিরাজুল ইসলাম ওরফে কলমদর মিয়ার নাতি জাকের আহমদ (অপু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বজনদের ওপর চালানো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
মৌলভীবাজার জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,তৎকালীন সময়ে মনু সেতুতে প্রদশর্নী করে পাকিস্তানি বাহিনীরা তিন শহীদকে হত্যা করে। তাদের কথা প্রতিবছর আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।  

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময় ২৮ মার্চ মনুব্রীজে ৮ নির্মাণ শ্রমিককেও হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।

/এইচকে/