মৌলভীবাজারে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত

20-dec-pic-3আজ ২০ ডিসেম্বর। মৌলভীবাজারবাসীর কাছে একটি বেদনার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাইন বিস্ফোরণে অর্ধ-শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাই এ দিবসটি স্থানীয়ভাবে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।




দিবসটি উপলক্ষে (মঙ্গলবার) মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী জেলা সংসদ স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।
এসময় জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, সাবেক গণ পরিষদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, উদীচীর ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিসসহ মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার ও ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ মুক্ত হয়।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপনকৃত মুক্তিযোদ্ধা হেড কোয়ার্টারে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এখানে কিছুদিন বিশ্রামের পর নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর কারও হয়নি। ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুর বেলা আকষ্মিক বিদ্যালয় ভবনে মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। মাইন বিস্ফোরণে ক্যাম্পে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিটকে পড়ে। এসময় অর্ধ-শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন।
তিনি আরও বলেন, পরে মুক্তিযোদ্ধাদের ছিন্নভিন্ন দেহ জড়ো করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সমাহিত করা হয়। এরপর থেকেই মৌলভীবাজারবাসী ২০ ডিসেম্বর স্থানীয়ভাবে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
/এআর/