মৌলভীবাজারে অভিযোগ থাকলেও প্রমাণ মিলছে না আর্থিক প্রলোভনের

জেলা পরিষদ নির্বাচন২৮ ডিসেম্বর দেশের অন্যান্য জেলার মতো মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তিন নেতা মাঠে রয়েছেন। ভোটাররা সবাই জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাদের মন পেতে বিভিন্ন কায়দায় প্রচারণা চলছে। ভোটারদের আর্থিকসহ নানা ধরনের প্রলোভন দেখানোর কথাও ভাসছে বাতাসে। তবে সরাসরি কেউ প্রলোভন পাওয়ার স্বীকার করছেন না বা প্রমাণও মিলছে না।

নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ৮৬ এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী হয়েছেন ২১ জন। আর মোট ভোটার ৯৫৬ জন।

জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে সাবেক সাংসদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজুর রহমানকে। তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। কিন্তু দল থেকে আরও দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এম এ রহিম। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরজন যুক্তরাজ্য যুবলীগের সহসভাপতি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুক্তরাজ্য লেবার পার্টির সদস্য সাহাব উদ্দিন। তার প্রতীক হচ্ছে প্রজাপতি।

আজিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন দলীয় নয়। তবু দল আমাকে সমর্থন দিয়েছে। যে কারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার আছে। নিজস্ব সিদ্ধান্তে তারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানানো উচিত ছিল। এখন নির্বাচনই প্রমাণ করবে দল আমাকে সমর্থন দিয়ে ভুল করল, না সঠিক করল।’

এম এ রহিম বলেন, ‘এটা নির্দলীয় নির্বাচন। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রার্থী না হওয়ার জন্য কোনও বাধা-বিপত্তি আসেনি। আমি বিশ্বাস করি আমার প্রতি শেখ হাসিনার পুরো সমর্থন আছে।’

সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এটা দলীয় প্রতীকের নির্বাচন নয়। তাই আমি প্রার্থী হয়েছি।’

দলের একাধিক প্রার্থী সম্পর্কে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দল-সমর্থিত প্রার্থী একজনই। আমরা অন্যদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছি। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি।’

এ ছাড়া চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ এম এম শাহীন। তিনি ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটার ও এলাকার মানুষ নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক সাড়া মিলছে।’

এছাড়া সাংবাদিক বকসি ইকবাল আহমদ ‘ঘোড়া’ ও সোহেল আহমদ ‘তালগাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন।

ভোটার ও কুলাউড়ার হাজীপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল বাছিত বলেন, ‘ভোটের সার্বিক অবস্থা ভালোই। তবে আলাপ-আলোচনা শোনা যাচ্ছে কিছু প্রার্থী ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দিচ্ছেন। তবে আমার মনে হয় এই নির্বাচনে ভোটাররা খুবই সচেতন।’

ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী বকসি ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘ভোট ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে ভোটের আমানত রক্ষা করার দাবি তুলে ভোটারদের কাছে গিয়েছি।’

তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী সোহেল আহমদ বলেন, ‘ভোট কেনার জন্য গোপনে টাকার ছড়াছড়ি চলছে বলে শোনা যাচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলার এক ইউপি সদস্য ভোটের মাঠের চিত্র বর্ণনা করে বলেন, ‘অনেক প্রার্থী ভোট নিজের আয়ত্ত্বে নিতে বিভিন্ন কৌশলে মাঠে ঠিকাদার নিয়োগ করেছেন। তাদের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন।’

মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনও অভিযোগ আসেনি। তারপরও দেয়ালে পোস্টার সাঁটাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’ 

মৌলভীবাজার ১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ

জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা চেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন সাবেক এমপি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী এমএম শাহীন। ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলায় ৭টি উপজেলা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভা নিয়ে। মোট ভোটার সংখ্যা ৯৫৬। ১৫টি ভোট কেন্দ্রে জনপ্রতিনিধি ভোটাররা ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মধ্য থেকে বেঁচে নেবেন একজন প্রার্থীকে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোর হল ১ নং ওয়ার্ডের পাথারিয়া ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়, ৩নং ওয়ার্ডের হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫ নং ওয়ার্ডের বরমচাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ নং ওয়ার্ডের নবীন চন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ৭ নং ওয়ার্ডের নয়াবাজার কেসি উচ্চ বিদ্যালয়, ৯ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪ নং ওয়ার্ডের কমলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৫ নং ওয়ার্ডের শমশেরনগর এএটিএম বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থী এমএম শাহীনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’

/এফএস/