আটক মুন্না বড়লেখা থানার মাইজগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং বিয়ানীবাজার ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। তিনি জানান, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ টিম ও ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহযোগিতায় গোয়েন্দার তথ্যে ফেসবুকে একটি ফেইক আইডির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে মুন্না আহমেদ নান্নুর সংশ্লিষ্টতা পায়। সে ফেসবুকে এসকে আব্দুল আলম নামে ফেইক আইডির মাধ্যমে চলতি এসএসি পরীক্ষার ঢাকা বোর্ডের বাংলা ২য় পত্র ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আটক মুন্না জানায়, ফেসবুকে নাইম রহমান ও আরিফুল ইসলাম নামের দুজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর ফেসবুকে বন্ধুত্বের সুবাধে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে টাকা রোজগারের লোভনীয় অফার আসে। তারা ওর কাছে ফোনে ও ফেসবুকে এমন অফার দেয়। তারা ওই ফেইক গ্রুপ আইডিতে তাকে অ্যাডমিন করে। সে ওই গ্রুপ আইডির ১৮ নাম্বার অ্যাডমিন ছিল। পরীক্ষার ১ ঘণ্টা, আধঘন্টা কিংবা আগের দিন রাতে ওই বিষয়ের প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে ওই গ্রুপের সদস্যদের হাতে পৌঁছাত তারা। আর টাকা লেনদেন হতো বিকাশের মাধ্যমে। প্রতিটি প্রশ্ন বাবত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা নিলেও ওদের ওই টাকার অর্ধেক দিতো সে। অনেক সময় প্রশ্ন হাতে পেয়েও কথা মতো অনেকেই টাকা বিকাশে পাঠায়নি। এছাড়া কোনও প্রশ্ন থাকতো হাতে লিখা আর কোনটি থাকতো প্রিন্টে। তবে সব প্রশ্ন ঠিক থাকতো না। তারপরও থেমে থাকতো না তাদের এই কার্যক্রম।
তবে ওই ফেইক গ্রুপ আইডির অ্যাডমিনদের কাউকে সে চিন্ত বলে সে জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) খন্দকার আশফাকুর রহমান ও গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) ওসি মো. মারুফ হোসেন।
/এমডিপি/