অতিরিক্ত পিপি জানান, বৃহস্পতিবার আদালত এই মামলার আরও ৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। সাক্ষ্যগ্রহণকালে রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুলহাইকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতে প্রতারণার বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত প্রতারণার জন্য রাগীব আলীর ৫৮ বছর ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ২৯ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, একই আদালতে ২ ফেব্রুয়ারি তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় ছেলেসহ রাগীব আলীকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ছেলে ও মেয়েসহ রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তারাপুর চা-বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অন্য একটি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে ২৩ ফেব্রুয়ারি। তবে রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করায় এ মামলার রায় ঘোষণা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। এ দুই মামলায় গত বছরের ১০ আগস্ট আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে ভারত চলে যান।
রাগীব আলী ‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এবং তার ছেলে আবদুল হাই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নাম ছাপা হয়। পলাতক অবস্থায় পত্রিকা সম্পাদনার এ দায়িত্ব পালন করে পাঠকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এ অভিযোগে সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই দিন মামলাটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। তবে সমন পাওয়ার পর জবাব না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য হয়।
এ মামলায় পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত প্রকাশিত ২৯টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনাকে সাক্ষী রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া মামলার বাদী ও বাদী পক্ষের আইনজীবীসহ ছয়জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করেন।
/এমডিপি/এমএনএইচ/