জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন সোমবার

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। উপজেলার ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি সাধারণ কেন্দ্র এবং ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ৫ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন পুলিশ মোতায়ন থাকবে। এছাড়া ৮৭টি কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের ৩১টি  মোবাইল টিম, ৯টি স্ট্রাইকিংফোর্স, ৬টি তদারকি টিম ও  ২টি বিশেষ মোবাইল টিম ও ২টি স্ট্যান্ডবাই মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। সব ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী (ব্যালট পেপার, সিলসহ স্টেশনারি) পৌঁছে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে  আওয়ামী লীগ, বিএনপি  ও  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া  ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন লড়ছেন। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ জন। পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬৯২ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ৮০৭ জন। ৮৭টি কেন্দ্রের ৪৩২টি বুথে ভোট নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের শেষের দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান আকমল হোসেনকে হারিয়ে ১৮ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান মাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তখন রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করলে আকমল হোসেন ফলাফল মেনে নেন।  পরবর্তীতে নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী মিন্টু রঞ্জন ধর নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুধু শাহারপাড়া নামক এক কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আলহাজ আকমল হোসেন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে কেটে যায় ৩ বছর। দীর্ঘ ৩ বছর পর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান আকমল হোসেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা। পরে ২০১৪ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে আবারও নির্বাচনের তোড়জোর শুরু হয়।

এ সময় ৩ বছর পর দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান আকমল হোসেন পুরো ৫ বছর মেয়াদ পেতে উচ্চ আদালতে রিট করলে, রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পুরো ৫ বছরের দায়িত্ব পান। সর্ব মোট ৮ বছর পর মেয়াদ শেষ হলে গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান,  শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হলে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করবে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিচ্ছেন ডা. কাদেরের পিএস শামছুজ্জোহা