রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই পলাতক থাকা অবস্থায় ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ সংবাদপত্রের প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশ করে পাঠকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ অভিযোগে সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো তাদের এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ছাপাখানা আইনানুযায়ী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পলাতক থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই তাদের নাম পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে আসা আইনানুগ নয়। ওই সময়ে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি রাগীব আলী এবং তার ছেলে আবদুল হাইয়ের নাম পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ছাপা হয়। পলাতক থাকা অবস্থায় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের নাম পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশ করে পাঠকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন তালুকদার জানান, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই পলাতক থাকা অবস্থায় পত্রিকাটি তাদের নাম প্রকাশ করে। কিন্তু রাগীব আলীর মামলা চলাকালে পত্রিকাটি কোনও ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেনি। অথচ সিলেটের স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসহ চ্যানেলগুলোতে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করে।
তিনি আরও জানান, পত্রিকাটি সংবাদ প্রকাশ না করায় জনস্বার্থে মামলাটি করা হয়।
মামলার আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পলাতক থেকে পাঠকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন রাগীব আলী ও আব্দুল হাই। আমরা আদালতে প্রতারণার বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতে প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হলে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
জানা যায়, এরপরও রাগীব আলী সিলেটের ডাক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এবং তার ছেলে আবদুল হাইয়ের নাম পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ছাপা হয়। পলাতক অবস্থায় পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করে পাঠকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন— এ অভিযোগে সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন তালুকদার গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রতারণার মামলা করেন। আদালত ওই দিন মামলাটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। তবে সমন পাওয়ার পরও জবাব না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য হয়। পত্রিকা প্রকাশনা ও সম্পাদনা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত প্রকাশিত ২৯টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনাকে সাক্ষী রাখা হয়। এছাড়া মামলার বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীসহ ছয়জন সাক্ষী ছিলেন।
একই আদালতে গত ২ ফেব্রুয়ারি তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় ছেলেসহ রাগীব আলীকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ছেলে-মেয়েসহ রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তারাপুর চা-বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপর একটি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি। রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন করায় এ মামলার রায় ঘোষণা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।এ দু’টি মামলায় গত বছরের ১০ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে ভারত চলে যান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মকিত অপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবো।’
/বিএল/
আরও পড়ুন: