সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চক্রটি গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বাসার খাবারে কৌশলে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে ডাকাতি করে। বুধবার সকালে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গোলাপগঞ্জ থানার নোয়াইর ঘাট গ্রামের মৃত মতছির আলীর ছেলে সরফ উদ্দিন (৪০), আমকোনা গ্রামের মৃত আছাদ্দর আলীর ছেলে আজিম উদ্দিন (৩০) ও উত্তর ধারাবহর গ্রামের মৃত হিরা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৪০)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে গোলাপগঞ্জের চৌমুহনী থেকে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফাতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৫ রাউন্ড গুলিসহ দেশীয় রিভলবার, ১টি দেশীয় এলজি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ ও চেতনানাশক কিছু পাউডার উদ্ধার করে।
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা (গণমাধ্যম) বাংলা ট্রিবিউন’কে জানান, এই চক্রটির দেওয়া বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত খাবার খেয়ে এ পর্যন্ত তিন জন মারা গেছেন। এরপর থেকে তারা বিষাক্ত খুনি হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা সম্প্রতি অজ্ঞান করে লুট করার কথা স্বীকার করেছেন। তারা অজ্ঞান করার জন্য উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পদার্থ পানির সাথে মিশিয়ে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে ঢুকিয়ে দূর থেকে টার্গেটকৃত বাসার খাবারের সঙ্গে ছিটিয়ে দেয়।
জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত অনুমানিক ১১টায় গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের মৌলভীর পুল নামক এলাকায় একটি ভাড়াটে বাসায় রাতের খাবারে দেওয়া অজ্ঞাত চক্রের বিষাক্ত পদার্থে গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদের মা,স্ত্রী ও কাজের মেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়ীর মা নাজমা বেগম (৬৫) মৃত্যুবরন করেন। গত ১ মার্চ গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের ফুলবাড়ী পূর্বপাড়া কলাভাগ এলাকার মৃত সোনাহর আলীর ছেলে মুশফিকুর রহমান লকুছ (৬০) ও একই পরিবারের ৪ নারী সদস্য রাতের খাবার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় লকুছ মিয়া মারা যান। এছাড়া সম্প্রতি সিলেট শহরেও একই ভাবে বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত খাবার খেয়ে ১ জনের মৃত্যু ঘটে।
/জেবি/
আরও বলতে পারেন: দিনাজপুরে ‘পীর’ হত্যার ঘটনায় মামলা