সিলেটে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলের ভেতরে এখনও পড়ে রয়েছে দুই জঙ্গির লাশ। 'অপারেশন টোয়াইলাইট' শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পরও নেই লাশ সরিয়ে নেওয়ার কোনও উদ্যোগ। ফলে ভবনের চারপাশের বাতাসে ছড়াচ্ছে লাশের দুর্গন্ধ। গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল অভিযান শেষে পুলিশকে আতিয়া মহল বুঝিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত লাশ দুটো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দলের অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়। তার মধ্যে এক নারী ও পুরুষ জঙ্গির লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি দুই পরুষ জঙ্গির লাশ আতিয়া মহলেই পরে আছে।
লাশ দুটো এখনও কেন উদ্ধার করা হচ্ছে না- এ প্রশ্নের জবাবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, 'বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল আসার পর লাশ দুটো উদ্ধার করা হবে। ভবনের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত লাশ দুটো উদ্ধার করা যাচ্ছে না। কারণ লাশ উদ্ধার করতে গেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বোমা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফলে বড় ধরণের ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই শতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।'
আরেক প্রশ্নের জবাবে জেদান আল মুসা জানান, 'লাশ দুটো আতিয়া মহলের ভেতরে কী অবস্থায় আছে তা বাইরে থেকে কোনোভাবেই বোঝা সম্ভব নয়। আশপাশের এলাকাগুলো নিরাপদ নয়। এজন্য পুলিশ বিশেষ সর্তকাবস্থায় রয়েছে। কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের তল্লাশি শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা কখন আসবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'তারা কখন আসবে, কীভাবে আসবে তা আমাদের জানা নেই।'
বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিববাড়িসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। আতিয়া মহল ঘিরে এখনও উদ্বিগ্ন এলাকার মানুষ। অন্যদিকে আতিয়া মহলের পাঁচতলা ভবনটি ভেতরে ও বাইরে গোলা-বারুদের আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। জঙ্গিদের কাবু করতে অভিযানের সময় রকেট লঞ্চার, মর্টারের শেলের সঙ্গে ভারি অস্ত্র ও গোলার আঘাতে দেয়ালে দেয়ালে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙা। ফলে ভবনটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাঁচতলা আতিয়া মহলে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযানের সময় ২৮টি ফ্ল্যাটে ৭৮ জন বাসিন্দা জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। আতিয়া মহলকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর প্যারা-কামান্ডো দলের অভিযান শুরু হওয়ার পর শিববাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিরাপত্তার কারণে পরিবার নিয়ে দক্ষিণ সুরমা ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়দের বাসায় ওঠেন। অনেকেই আবার গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকাল থেকেই তাদের যার যার বাড়িতে ফিরতে দেখা যায়। এছাড়াও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে হাট-বাজার। সেই সঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের শিববাড়ি, নূরপুর, পাঠানপাড়া, জৈনপুর, বন্দরঘাট, খাঁন বাড়ির লোকজনেরও প্রায় এক সাপ্তাহের বন্দিদশা অবসান হয়েছে। গত শনিবার (২৫ মার্চ) সেনাবাহিনীর অপারেশন ‘টোয়াইলাইট’-এর শুরুতে এই ভবনের বাসিন্দাদের বন্দি অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) অভিযানে আতিয়া মহলের ভেতরে থাকা এক নারী জঙ্গি ও তিন পুরুষ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। এর মধ্যে নিহত তিন পুরুষ জঙ্গির মধ্যে একজন জেএমবির শীর্ষ সন্ত্রাসী মাঈনুল ইসলাম ওরফে মুসা রয়েছেন বলে ধারণা করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
/জেবি/এফএস/
আরও পড়তে পারেন: সিলেটের পাঠানপাড়ায় হামলাকারী বড়হাটের অভিযানে নিহত