বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে শুধু পানি। চোখে পড়ে না গোছা গোছা ধানের শীষ। বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় তা ভেঙে ঢুকছে পানি। এরপর আবার অসময়ের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নদনদী ও খালবিলের পানি বেড়ে হাওর ভেসে যাচ্ছে। জেলার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২৫টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে।
শাল্লা ইউপির কৃষক কনক মিয়া বলেন, ‘পিআইসিরা টাকা লুটেপুটে খেয়ে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। আর কৃষকরা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এ হিসাব ক’জন রাখে? এবার দুর্ভিক্ষ ছাড়া কিছুই চোখে দেখছি না।’
জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৮টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ মেরামত, সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও কাজ শুরু হয়েছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। ফলে এখনও বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। কোনও কোনও বাঁধে এখনও মাটি ফেলা হয়নি। এসব কারণে হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সময় মতো বাঁধে মাটি পড়লে ফসলহানি এড়ানো যেত বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন, কাঁচা ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এবার কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। অধিকাংশ স্থানেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. জাহেদুল হক বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৭২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ১ লাখ ২০ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশীদ বলেন, যথা সময়ে বাঁধের কাজ শুরু হলে এ রকম অবস্থায় পড়তেন না কৃষকরা। গত কয়েক দিনে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, লোকসংস্কৃতি গবেষক লেখক ইকবাল হোসেন কাগজী বলেন, হাওর এলাকার নদনদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পানিধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পানি উপচে হাওরে প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্বাঞ্চল) একেএম মমতাজ উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকার ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে হাওর উন্নয়ন ও আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর ৬৮ কিলোমিটার নদী খনন কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষক আগাম বন্যার হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
/বিএল/