হবিগঞ্জের (বাহুবল-নবীগঞ্জ) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান জানান, আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের গোলাপ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক গজনাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
২০১৬ সালের ১৩ মার্চ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অফিসে উপজেলার আতানগীরি গ্রামের রইছ উল্লার স্ত্রী সুকুরি বিবি একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন আলবদর, আলসামছ ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন। গোলাপের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দিনারপুর হাইস্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষণসহ পাশবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করতো।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকাল ৪টার সময় গোলাপের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাদীনির বসত ঘরে আসলে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে দৌড় দিলে আসামি গোলাপ তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে তুলে দেয়। পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্পে নিয়ে ওই বাদীনিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং আসামি গোলাপও বাদীনিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আরও অনেক নারীকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয় আবুল খায়ের। আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সে আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলে যুদ্ধপরাধী ও মানবতাবিরোধী ব্যক্তিদের বিচারকার্য শুরু হলে তিনি এই অভিযোগ করেন।
এ প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত টিম গোলাপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন।
/এআর/